সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেই আসমানী রবি-সুজিতার পাশে মানবিক ইউএনও

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কবিতা আসমানীর চরিত্রের থেকেও ভয়াবহ অবস্থায় বসবাস করছিলেন বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবি রায়।

উপরের ছাউনি আর চারপাশের বেড়া হিসেবে শুধু ছেঁড়া-ফাটা পলিথিন টাঙিয়ে দুটি ছোট ছাপরা ঘর বানিয়ে একটিতে রবি রায় তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এবং আরেকটিতে তার বৃদ্ধা মা সুজিতা রানী রায় বসবাস করছিলেন।

দিনমজুর রবি রায় নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। ফলে তার ছোট ছোট পাঁচজন ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না। পরিবার চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরে আসে উজিরপুর উপজেলার মানবিক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজার। তিনি তাৎক্ষণিক রবি-সুজিতাদের বাড়িতে ছুটে যান।

পরে ইউএনও আলী সুজা তার সরকারি ফেসবুক আইডি “ইউএনও উজিরপুর” থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। কমেন্টে সর্বস্তরের মানুষ তাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ইউএনও আলী সুজা জানান, “সকালে অফিসে যাওয়ার আগে মোবাইলে ভিডিওটি চোখে পড়তেই সরাসরি রবি রায়দের বাড়িতে চলে যাই। গিয়ে যা দেখলাম, তাতে মনে হলো এভাবে মানুষের বসবাস সম্ভব নয়। ছেঁড়া-ফাটা পলিথিন দিয়ে মোড়ানো খুপরি ঘরে দুটি পরিবারকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “যেখানে তাদের আসন্ন সার্বজনীন দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেখানে তারা অনাহারে-অর্ধাহারে কষ্টে বেঁচে আছেন। বেশ কিছুক্ষণ হতবাক হয়ে বসে ছিলাম, তারপর মনে হলো কিছু একটা করতেই হবে।”

প্রাথমিকভাবে পরিবারের জন্য খাবার, ঘর নির্মাণে সরকারি টিন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও। পরবর্তীতে স্থানীয়রাও এগিয়ে আসেন এবং রবি-সুজিতা রায়দের জন্য স্থায়ীভাবে ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ