সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভুয়া তথ্য দিয়ে বিএনপি নেতা হয়েছেন স্কুলের সভাপতি

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মো. সবুর খানের বিরুদ্ধে বিএ পাসের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

বাইশারী এলাকার বাসিন্দা মামুন ফরাজী বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. রফিকুর ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

ওই কমিটিতে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ও বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সবুর খানকে সভাপতি, মো. হুমায়ুন কবিরকে অভিভাবক সদস্য, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফিরোজ আহমেদকে শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য এবং প্রধান শিক্ষক মো. ফকরুল আলমকে পদাধিকারবলে সদস্য সচিব করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, স্কুল কমিটির সভাপতি হতে হলে ন্যূনতম স্নাতক পাস হতে হয়। কিন্তু বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনের সময় জমা দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে সবুর খান নিজেকে বিএ পাস হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এর প্রমাণস্বরূপ তিনি কোনো সনদের কপি জমা দেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুর খানের নাম প্রথমে রেখে সুপারিশ বোর্ডে পাঠান।

অভিযোগকারী মামুন ফরাজী বলেন, সবুর খান তার বায়োডাটায় বিএ পাস উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি বিএ পাস নন। বিএনপির নেতা হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রায় দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। এজন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বোর্ডের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য যাচাইয়ের আবেদন করেছি। কিন্তু আবেদন করার প্রায় এক মাস পার হলেও বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো. ফকরুল আলম বলেন, এডহক কমিটি গঠনের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সভাপতি পদে সবুর খানের নাম প্রস্তাব করেন। ফলে তাকে এক নম্বরে রেখে তিনজন প্রার্থীর তালিকা ইউএনও অফিসে জমা দেওয়া হয়। তালিকার সঙ্গে সবুর খানের দেওয়া একটি জীবনবৃত্তান্তও ছিল। এতে তিনি বিএ পাস বলে উল্লেখ করেন। তবে সময় স্বল্পতা ও ব্যস্ততার কারণে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সবুর খানকে সভাপতি করে আমাদের কাছে চিঠি পাঠায়।

এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর মো. রফিকুর ইসলাম খান বলেন, স্থানীয় মামুন ফরাজীর অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিটি বাতিলসহ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ