এ.টি.এম. হুমায়ুন কাদির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৭২ নং দক্ষিণ-পূর্ব কচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বগরীকান্দা হতে জয়রামপুর-হরিপুর কাঁচা রাস্তাটি গত ৩০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে— জয়রামপুর ও হরিপুর দুই গ্রামের প্রায় ৪-৫ হাজার মানুষের বসবাস। এই কাঁচা রাস্তা তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজসহ সর্বস্তরের মানুষ উপজেলা সদর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন এ রাস্তাটি দিয়েই। গ্রামে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩-৪টি মাদ্রাসা, ২০টি মাছের খামার, ৫-৬টি গরুর খামার এবং ৭-৮টি মুরগির খামার।
স্থানীয় মৃত মিয়া বকসের পুত্র আব্দুল আহাদ ও মৃত ডা. আবুল হোসেনের পুত্র বাবুল মিয়া জানান, প্রায় ২ কিলোমিটার এই রাস্তাটি বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে যায় এবং ছোট-বড় খানাখন্দে ভরে ওঠে। তখন এটি যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগীকে কাঁধে করে পাকা রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে পাঠানোর জন্য। খামারের মালামাল পরিবহনেও সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। এমনকি মাছ, গরু ও পোল্ট্রির খাবারের সংকট তৈরি হয়, ফলে লস দিয়ে বিক্রি করতে হয়।
৭২ নং কচুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হালিমা আক্তার খাতুন জানান— স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই এই দুই গ্রামের বাসিন্দা। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা আসা-যাওয়ার পথে পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা, স্কুল পোশাক নষ্ট করে ফেলে এবং অনেক সময় আহতও হয়। তিনি বলেন, “স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি পাকাকরণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমিনা সাত্তার জানান, রাস্তাটির সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হবে। স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ বছরে এ রাস্তায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কাজের অগ্রগতি হয়নি। তারা ২ কিলোমিটার রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।








