স্টাফ রিপোর্টার- নকল চাবি তৈরি করে মোটরসাইকেল চুরির একটি বড় চক্রের মূলহোতা সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় ১৩টি চোরাই মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (উত্তরা) বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দলের বিশেষ অভিযানে ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকা ও চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. খালেক হাওলাদার ওরফে সাগর আহম্মেদ (৪৮) এবং মো. জিসান আহমেদ ওরফে সম্রাট (২২) । তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল মধ্যে রয়েছে ডিসকভার ২টি, পালসার ৩টি, অ্যাপাচি ২টি, প্লাটিনা ১টি, টিভিএস ২টি, সুজুকি ১টি, র্যাপিডো ১টি ও হিরো মোটরসাইকেল ১টি রয়েছে। 
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. খালেক হাওলাদার ওরফে সাগর আহম্মেদকে গ্রেফতার করা হয়। তারা মোটরসাইকেল ঢাকা থেকে চুরি করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করছেন। তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পার্কিংয়ে থাকা মোটরসাইকেল কৌশলে মাস্টার চাবি দিয়ে লক খুলে চুরি করে নিয়ে যেতো।
তিনি জানান, তারা রাজধানীতে বিভিন্ন অফিসের সামনে কিংবা আশপাশে যেসব মোটরসাইকেল ও গাড়ি পাকিংএ রাখা হয় সেগুলো খেয়াল রেখে নকল চাবি তৈরি করে চুরি করতো । গত ৮ বছরে রাজধানী থেকে এভাবে ৭০০টি মোটরসাইকেল চুরি করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে চক্রটি। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানার আকানিয়া বিশ্বরোড মোড় সংলগ্ন অরুনের গ্যারেজ থেকে ১৩ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর ১৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও চোর চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল ডিবি। গ্রেফতারকৃতদের দুইজন সেই চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। এর মধ্যে গ্রেফতারকৃত খালেকের নামে বিভিন্ন থানায় ১৫টি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানান ডিবি প্রধান।
ডিবি প্রধান বলেন, গত দুই মাসে ৫০টির মতো প্রাইভেটকার একশর কাছাকাছি মোটরসাইকেল আমরা উদ্ধার করেছি। এর অনেকগুলোরই কোনো কাগজপত্র নেই। নকল কাগজ বানিয়ে মফস্বল এলাকায় এগুলো বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।
যারা গ্রাম এলাকা থেকে এসব মোটরসাইকেল কেনেন তারা কেনার আগে যেন কাগজপত্র বিআরটিসি থেকে যাচাই করে নেন। না হলে যার কাছ থেকে উদ্ধার করা হবে এসব মোটরসাইকলে সেই চোরাই মামলার আসামি হবেন। যেসব মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এগুলোর সঠিক কাগজ নিয়ে আসবেন আমরা যাচাই করে তাদেরকে দিয়ে দেয়ার হবে। গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল অফিসের সামনে রাখলে দারোয়ানকে বলে রাখা অথবা রাস্তায় যেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে সেসব জায়গায় মোটরসাইকেল রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ডিবি প্রধান।








