,

মোবাইলের আইএমই পরিবর্তন করে মার্কেটে বিক্রি করে শরীফ

স্টাফ রিপোর্টার- রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর এবং গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক ছিনতাইকারী চক্র চলন্ত গাড়ি কিংবা ট্রাফিক সিগনালে থাকা গাড়ি থেকে থাবা দিয়ে কিংবা অন্ধকারে নিরীহ পথচারীদের জিম্মি করে যে সকল মোবাইল ফোন ছিনতাই করে সেই মোবাইলগুলো দলনেতা শরীফ জমা রাখত। শরীফ স্বল্পমূল্যে এ সকল মোবাইল কিনে তার দুই সহযোগী আব্দুল্লাহ বাবু ও শ্যামলের মাধ্যমে মোবাইলের আইএমই নাম্বার পরিবর্তন করে বাজারে বিক্রি করত। গত ৫ বছর যাবৎ এই কাজ করে আসছে শরীফ। একদিনে সর্বোচ্চ ৫০ টি পর্যন্ত মোবাইল ফোন এভাবে সংগ্রহ করে বিক্রয় করার রেকর্ড রয়েছে শরীফের ।

অবশেষে র‌্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে ৪ সহযোগী সহ গ্রেফতার হলো উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর এবং গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকার চোরাই মোবাইল কেনা বেচা চক্রের মূলহোতা শরীফ। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন ।

তিনি জানান, রাজধানীর উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ায় র‌্যাব। ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলা অভিমুখে যাতায়াতকারীদের এক বিশাল অংশ আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে ভ্রমন করার সুযোগে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র নিরীহ পথচারীদের সর্বস্ব ছিনতাই করে। ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা নিরীহ মানুষকে অস্ত্রাঘাত করে, প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল, গাড়ী, টাকা পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি ছিনতাই করে জন জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।

গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে ওইসব এলাকায় ছিনতাই এর সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। এক পর্যায়ে গত ৫ অক্টোবর র‌্যাব-১ টঙ্গী পশ্চিম থানার ঢাকা ময়মনসিংহ রোড এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে টঙ্গি স্টেশন রোড পর্যন্ত ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম মাষ্টারমাইন্ড শরীফ হোসেন (২২) ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পায়।

পরবর্তী অনুসন্ধানে বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত দশটায়  র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতা ১) মোঃ শরীফ হোসেন (২২) এবং তার সহযোগী আব্দুল্লাহ বাবু (২৩), মোঃ শ্যামল হোসেন ওরফে রাব্বি (২৩)কে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের নিকট থেকে ছিনতাইকৃত ১ টি মোটর সাইকেল, ১০ টি মোবাইল ফোন, ১ টি হাত ঘড়ি এবং নগদ ২৫,৬৩৫/- টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যমতে শুক্রবার ভোর রাতে  র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাই চক্রের অপর সক্রিয় সদস্য ১) নাছির রাজ (৩০), ও সাজেদুল আলম ওরফে শাওন (২১)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ছিনতাইকৃত ৪৯ টি মোবাইল, ২ টি সিপিউ, ২ টি মনিটর, ২ টি মাউস, ২ টি কি-বোর্ড, ২ টি ক্যাবল, ১ টি সিসি ক্যামেরা, ১ টি ডিভিআর, ১ টি চার্জার, ১ টি হাত ঘড়ি, ২ টি ভিসা কার্ড এবং নগদ ৩,৭৫০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।

অধিনায়ক আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী শরীফ হোসেন (২২) এ চক্রের অন্যতম মূলহোতা ও মাষ্টারমাইন্ড। সে উত্তরা আজমপুর হতে আব্দুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ড হয়ে টঙ্গি স্টেশন রোড পর্যন্ত সড়কের ছিনতাইকারী চক্রের দলনেতা। ইতিপূর্বে সে একটি মামলায় কারাভোগ করে। সম্প্রতি সে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই পেশায় জড়িয়ে পরে।

লে.কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন
লে.কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন

গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ বাবু (২৩) ও শ্যামল (২৩) ছিনতাইকৃত মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল বিক্রয়ের কাজে জড়িত। তারা বিভিন্ন দোকান, অনলাইন প্লাটফর্ম ও বিভিন্ন জনের কাছে খুচরা হিসেবে ও এসব মোবাইল বিক্রি করত। তারা ছিনতাইকৃত মোবাইল বাজারমূল্যের চাইতে প্রায় অর্ধেকেরও কম মূল্যে বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করত।

গ্রেফতারকৃত নাছির (৩০) ও শাওন (২৪) মোবাইল টেকনিশিয়ান। টঙ্গি বাজারে নাছিরের একটি মোবাইল মেরামতের দোকান রয়েছে। সে ওই দোকানে বৈধ ব্যবসার আড়ালে চোরাই মোবাইল এর লক খোলা ও আইএমই পরিবর্তনের কাজ করে থাকে। সে ৩ বছর যাবৎ নিজস্ব দোকানে ব্যবসা করে আসছে। নিজের দোকানে ব্যবসা শুরু করার পূর্বে নাছির অন্য একটি দোকানের কর্মচারী ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। শাওন (২১) একটি মোবাইল মেরামত দোকানের কর্মচারী। সে ৫০০/১০০০ টাকার বিনিময়ে ছিনতাইকৃত মোবাইলের লক খোলা এবং আইএমই পরিবর্তনের কাজ করত। সে বিগত ৩ বছর যাবৎ এ কাজ করে আসছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ শরীফ হোসেনের (২২) সহযোগীরা তার নির্দেশে ছিনতাইয়ের মালামাল বিক্রির কাজ করে থাকে। তারা প্রত্যেকে বৈধ পেশার আড়ালে ছিনতাইকারী চক্রের মদদাতা ও আশ্রয়দাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের নিকট স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ