স্টাফ রিপোর্টার- নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট।
গত রবিবার (১৬ এপ্রিল)এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এর একটি অভিযানিক দল নিজস্ব ইন্টেলিজেন্সের ভিত্তিতে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালীয়া থানার বালিয়াপুকুর থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর সক্রিয় সদস্য মামুন অর রশিদ ওরফে মুন্না (২৭) কে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় এটিইউ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৭ এপ্রিল) এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার কাজিরখিল এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর অপর এক সক্রিয় সদস্য মো: ইসহাক ওরফে মো: ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার করে। ইসমাইল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ৩য় বর্ষের ছাত্র।
এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর মো: ইসহাক ওরফে মো: ইসমাইল হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে প্রাপ্তির পর তার রাজশাহীর মেস বাড়িতে তল্লাশী অভিযান চালিয়ে তার দেখানো মতে কক্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরিরের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, খিলাফত প্রতিষ্ঠার আহবান, দল গঠনের প্রক্রিয়া, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র বিরোধী লেখনীসহ আরো বিভিন্ন কথিত জিহাদী ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বোয়ালিয়া থেকে গ্রেফতারকৃত আসামী মামুন অর রশিদ ওরফে মুন্না ২০১৬ সাল থেকে হিযবুত তাহরীর এর একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানা এলাকায় কতিপয় সক্রিয় সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র, হত্যা, দেশে অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে অনলাইন ও সাইবার স্পেসের মাধ্যমে উগ্রবাদী, জননিরাপত্তা বিঘ্ন, জনমনে ত্রাস ও আতংক সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল।
এছাড়াও তারা রাজশাহী শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হিযবুত তাহরীরের পক্ষে রাষ্ট্র বিরোধী বক্তব্য সম্বলিত পোস্টার প্রচার করে আসছিল। তারা জাঙ্গী নামক মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে যোগাযোগ ও তথ্য আদান প্রদান করত।
তিনি জানান, গ্রেফতারকালে মামুন অর রশিদ ওরফে মুন্নার কাছ থেকে উগ্রবাদী প্রচার-প্রচারণায় ৩ টি মোবাইল ফোন, ৩ টি সিম কার্ড, হিযবুত তাহরীরের খিলাফত প্রতিষ্ঠা বিষয়ক ১১ টি কন্টেন্ট এর কপি ও হাতে লেখা নোটবুক জব্দ করা হয়। আসামী মামুন, মো: ইসহাক ওরফে মো: ইসমাইল হোসেন এবং অন্যান্য পলাতক আসামীদের নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় পাঠচক্র আয়োজন করে এসকল কন্টেন্ট এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করত।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী মামুন অর রশিদ ওরফে মুন্নার ও মো: ইসহাক ওরফে মো: ইসমাইল হোসেনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৪ দিন ও ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।








