Search
Close this search box.

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার- একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলীকে (৭০) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) । শনিবার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার  করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। তিনি ১৯৭১ সালে গঠিত ইসলামী ছাত্র সংঘের একজন অন্যতম সংগঠক এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা জামায়াত ইসলামীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

এছাড়া শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে এলাকায় লুটপাট ও বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রম চালাতেন।

১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে আবু সালেহ, আব্দুল লতিফ, রুহুল আমিন, নাজমুলসহ আরও কয়েকজন রাজাকার পাকিস্তানি আর্মিদের দল নিয়ে সকালে মালিবাড়ি গ্রামের গণেষ চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে হামলা চালায়।

একপর্যায়ে অগ্নিসংযোগ করে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এরপর গণেষ চন্দ্র বর্মনকে উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। এছাড়া গণেষের বন্ধু আকবর আলী এবং প্রতিবেশী মোহাম্মদ আলী ও মনসুরকে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে যান। এদেরর মধ্যে আকবর আলীকেও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

রোববার(২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে  রাজধানীর টিকাটুলি র‍্যাব-৩ এর কার্যালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, এ ঘটনায় ২০১৩ সালে আকবর আলীর ছেলে আনিছুর রহমান বাদী হয়ে গাইবান্দার আদালতে আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহিম, আবু সালেহ, আব্দুল লতিফ, রুহুল আমিন, নাজমুল হুদাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

তিনি জানান, ২০১৪ সালে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে স্থানান্তর করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। মোহাম্মদ আলী ছাড়া বাকি আসামিদের মধ্যে বর্তমানে একজন জর্ডানে, একজন কারাগারে, দুইজন পলাতক রয়েছেন এবং একজন পলাতক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আরও জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই মোহাম্মদ আলী আত্মগোপনে চলে যান। প্রথমে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ থানায় তার এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর গাইবান্ধার তিস্তা নদীর বেলকার চর গিয়ে আত্মগোপনে থেকে দিন মজুরির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে ঢাকায় পালিয়ে এসে প্রথমে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের শুরু থেকে ডেমরা এলাকায় একটি বস্তিতে বসবাস করা মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ