নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
উদীয়মান সংগীতশিল্পী সুজন হাবিব এর গল্প।
তাকে চিনে রাখুন। হয়তো আজ তার নাম শহরের দেয়ালে লিখা নেই, কিন্তু হয়তো একদিন তার গানে শহর থমকে দাঁড়াবে। এই মুহূর্তে হয়তো কোনো ছোট স্টেজে, অচেনা ভিড়ের ভেতর গাইছে ছেলেটা। চোখ বন্ধ করে, মন খুলে।
নাম সুজন হাবিব। বয়স ত্রিশ। বাড়ি জামালপুর শহরে। তার পরিচয়ের শুরু হয় সংগীত দিয়ে, শেষও সেখানেই।
সংগীত তার জন্যে কোনো শখ নয়, বিনোদনও নয়। এটা তার শ্বাস। ঠিক যেমন করে মানুষ নিঃশ্বাস নেয় বাঁচার জন্য, সুজনও গানে ডুবে থাকে বাঁচার জন্য।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা হালিমা বেগমের কাছেই সংগীতের হাতেখড়ি। মায়ের কণ্ঠের ঘরোয়া লয় থেকেই সংগীত তার হৃদয়ে বীজ ফেলে। পরে জামালপুরের ওস্তাদ হারুন অর রশিদের কাছে তালিম। সংগীতের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় জামালপুর শিল্পকলা একাডেমিতে। একাডেমির দেয়াল, করিডোর, এমনকি ক্লাসরুম—সব যেন চেনে তার গলার সুর।
২০১০ সাল ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো এক বছর। জামালপুর মিউজিক ফেয়ারে সুজন তার লেখা প্রথম মৌলিক গান গাইলেন—”জীবনে যে গান বাজে”। গানের কথা ও সুর করেছিলেন এম এ কামাল শাহিন। গানটি কোনো প্রচারণা ছাড়াই ভাইরাল হয়ে যায়। শহরজুড়ে তরুণ শ্রোতাদের মনে জমে যায় একধরনের মুগ্ধতা।
সেই এক গানই যেন ঘোষণা করেছিল—এই কণ্ঠ হারিয়ে যাবে না।
ঢাকায় এসে এখন নিয়মিত স্টেজ শো করেন, নতুন গান তৈরি করছেন। কিন্তু যত বড় হোক আয়োজনে, গান গাওয়ার সময় ছেলেটির চোখে থাকে সেই একই স্থিরতা—যেন ভেতরের কোনো কথা সে বলে দিচ্ছে গানের ভাষায়।
“আপনার গান শ্রোতাদের এত ছুঁয়ে যায় কেন?”– এই প্রশ্নের জবাবে সে একটু ভেবে বলল,
“আমি তো নিজের জন্য গান গাই না। যে শুনছে তার জন্য গাই। তার কিছু না কিছু হয়তো আমার গানে লুকিয়ে থাকে।”
জেমস, বাপ্পা মজুমদার, সুবির নন্দী, এন্ড্রু কিশোর—এদের গান এখনো তার অভ্যস্ত প্রেরণা। নিজের মৌলিক গান তৈরির সময়েও সেই প্রেরণার ছায়া তাকে ছুঁয়ে থাকে।
তার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো তারকা হওয়ার তৃষ্ণাও নেই। সে শুধু চাইছে একটা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মন খুলে গাইতে পারবে। গান তাকে যেভাবে ডাকে, সেভাবেই সে সাড়া দিতে চায়।
আশ্চর্য লাগে, যখন দেখি এই ছেলেটি ব্যস্ত শহরের কোলাহলে থেকেও কেমন স্থির। তার গানে প্রেম আছে, মায়া আছে, কখনো কখনো কষ্টও আছে—কিন্তু সেই কষ্টটাও গান হয়ে নেমে আসে, কাঁদায় না, ছুঁয়ে যায়।
একদিন হয়তো আমরা বলব—এই ছেলেটিই ছিল আমাদের সময়ের হারিয়ে যাওয়া সুরের খোঁজ।
তার কণ্ঠে, তার সুরে, একধরনের অদ্ভুত প্রশান্তি মিশে থাকে। সেই প্রশান্তি হয়তো সব শিল্পীর ভাগ্যে জোটে না।
সময়ই বলে দেবে—সুজন হাবিব সংগীত জগতে কতদূর যাবে। তবে এতটুকু বলা যায়, তার পথচলা শুরু হয়েছে বিশ্বাস দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে। আর শুরুটা যদি ভালোবাসা দিয়ে হয়, তবে শেষটাও খুব একটা মন্দ হয় না।








