,

ভারতের গুজরাট ট্রাজেডিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ভারতের গুজরাট ট্রাজেডিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের গুজরাটে দীপাবলি উৎসবের সময় মাচ্চু নদীর ঝুলন্ত ব্রীজ ভেঙ্গে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক লোকের প্রাণহানিতে গভীর শোকও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লিখিত এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এবং আমি নিজে এই হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক ঘটনায় ভারতের সরকার ও জনগণের নিকট গভীর শোক প্রকাশ করছি।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘ঘটনার সাথে সাথে ভারত সরকারের গৃহীত উদ্ধার কার্যক্রমের আমরা প্রশংসা করি।’ সূত্র : বাসস।

শেখ হাসিনা নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আশা করি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শক্তি যোগাবে।

শেখ হাসিনা পুর্নব্যক্ত করেন, এই কঠিন সময়ে আমরা ভারতের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের মোরবি জেলায় ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ১৪০ জনের উপরে মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এছাড়া বহু মানুষকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেই সাথে নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেক মানুষ। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তানটাইমস।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৩০ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যায় গুজরাটের মোরবি জেলার মাচ্চু নদীর উপর মেরামত শেষে সম্প্রতি খুলে দেওয়া একটি ঝুলন্ত সেতু ভেঙে আহত হন বহু মানুষ। ওই সময় সেতুর উপরে থাকা প্রায় সকলেই নদীতে পড়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুতে যারা ছিলেন, তাদের অধিকাংশই পর্যটক।

প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধারকাজ চালায়। হতাহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার ফোর্স (এনডিআরএফ) ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং রাতভর অভিযান চালায়।

স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী এবং পুলিশ গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সেতুটি ভেঙে পড়ার পরে কিছু মানুষ সাঁতার কেটে তীরে চলে আসার চেষ্টা করেন। আবার কাউকে কাউকে ভাঙা সেতুর রেলিং ধরে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি সোমবার সকালে জানান, এখন পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সেনাবাাহিনী ও এনডিআরএফ সারা রাত ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে সেতুটি সংস্কারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর গুজরাটি নববর্ষের দিনে এটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সেতুটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় শত শত মানুষ সেতুতে উপস্থিত ছিল। এ দুর্ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর কিছুদিন পরই গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন। এ উপলক্ষ্যে রবিবার তিন দিনের নিজের রাজ্য গুজরাট সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার অবস্থানকালেই ঘটে এই বিপর্যয়। তিনি দ্রুত হতাহতদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে গুজরাট সরকার।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোরবি ট্র্যাজেডি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ