,

সেবা ও ত্যাগের অনন্য নজির গড়েছেন রানি এলিজাবেথ – শেখ হাসিনা

রানি এলিজাবেথের শেষকৃত্যে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার – ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। খবর শুনে রাজপরিবারের সদস্যরা সবাই তার শয্যাপাশে উপস্থিত হন। সন্ধ্যায় তার জীবনাবসান ঘটে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ব নেতারাও। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শুক্রবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ব্রিটেনে ১০ দিনের শোক চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেছেন, সেবা ও ত্যাগের অনন্য নজির গড়েছেন রানি এলিজাবেথ।

যুক্তরাজ্যের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলন গিয়ে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষাৎ হয়। বাকিংহাম প্যালেসে রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে অসীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেবল কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর আড়াই বিলিয়ন মানুষের বন্ধনের ভিত্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন করুণা, মর্যাদা, প্রজ্ঞা আর সেবার মূর্ত প্রতীক।

শুক্রবার ব্রিটিশ প্রধানন্ত্রী লিজ ট্রাসের উদ্দেশে লেখা এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেবল কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর আড়াই বিলিয়ন মানুষের বন্ধনের ভিত্তি আর শক্তিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন করুণা, মর্যাদা, প্রজ্ঞা আর সেবার মূর্ত প্রতীক।

তিনি আরও বলেন, মহামান্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি আপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে গভীর শোক এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের উদ্দেশ্যে আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

রানির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজপরিবারের সকল সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের শোকাহত জনগণের সঙ্গে আমরাও সমব্যথী। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, সমকালিন বিশ্ব ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি এবং সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ব্রিটিশ সিংহাসনের অধিষ্টাত্রী হিসেবে রানি এলিবাজেথ কর্তব্য, সেবা ও ত্যাগের অনন্য নজির গড়ে গেছেন এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত প্রজার জন্য আন্তরিকতার এক অতুলনীয় ঐতিহ্য রেখে গেছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাহস, দৃঢ়তা আর অনুপ্রেরণার এক অসাধারণ উৎস হয়ে থাকবেন; বাংলাদেশে তার দুই দফা রাজকীয় সফরের কথা এ দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
নতুন রাজা চার্লসের পক্ষে ব্রিটিশ রাজপরিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, আমার প্রিয় মা, মহামান্য রানির মৃত্যু আমার এবং আমার পরিবারের সব সদস্যের জন্য এক পরম দুঃখের মুহূর্ত। আমি জানি তাকে হারানোটা সারা দেশ, অধীনস্থ অঞ্চল, কমনওয়েলথ এবং সারা বিশ্বের অসংখ্য মানুষ গভীরভাবে অনুভব করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শোক জানিয়ে বলেন, ৪০ বছর আগে রানির সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিলো। প্রেসিডেন্ট হিসাবে ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর রানি তার বুদ্ধি দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করেছিলেন। তার উদারতা দিয়ে আমাকে আন্দোলিত করেছিলেন।

ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, রানি এলিজাবেথ একজন সদয় মনের রানি ছিলেন। তিনি ফ্রান্সের বন্ধু ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, রানির অনুগ্রহ, কমলতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে বিশ্ব দরবারে মোহিত করেছেন। বেশ কয়েকবার তার সাথে আমার দেখা হয়েছে, তিনি তার উষ্ণতা দিয়ে আমাকে বরণ করেছেন। আড়ম্বপূর্ণ পরিবেশেও তিনি রসিকতা করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক আরো এক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প বলেন, রানি এলিজাবেথের উদার বন্ধুত্ব আমি কখনো ভুলবো না। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, রানি এলিজাবেথের প্রতি কানাডার জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তিনি আমার প্রিয় মানুষদের একজন ছিলেন। তার কথা কখনো ভুলবো না।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় সিংহাসন অলংকৃত করে রেখেছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। মাস কয়েক আগেই তার সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর উদযাপন করা হয়েছিল। ১৯৫২ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অভিষেক ঘটে।

রানি এলিজাবেথ গ্রীস্মকালীন আবাস স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসল প্রাসাদে ছিলেন। মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লিজ ট্রাসকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেন রানি। পরদিন বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রিভি কাউন্সিলের সঙ্গে এক বৈঠক থাকলেও তা বাতিল করেন রানি। এপির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বালমোরাল প্যালেসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সকালে পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকরা রানির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানান। এরপর তাকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। দ্বিতীয় এলিজাবেথ (এলিজাবেথ আলেকজান্ড্রা ম্যারি ) মৃত্যুর আগে তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্য এবং আরও ১৫ টি কমনওয়েলথ রাজ্যের রাণী। এলিজাবেথ লন্ডনের মেফেয়ারে ইয়র্কের ডিউক এবং ডাচেস (পরে রাজা জর্জ এবং রাণী এলিজাবেথ)-এর প্রথম সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ