স্টাফ রিপোর্টার – প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নিজেদের গঠনতন্ত্রই মানে না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে তাই কখনোই তুলনা চলে না। কেউ কেউ বলেন বড় দুই দল। যারা এই তুলনা করে তারা ভুল করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ৩০ আসন। তিনশ সিটের মধ্যে। আর আওয়ামী লীগ মহাজোট করেছিল। বিএনপির ছিল ২০ দলীয় জোট। বিএনপি পেল ৩০ আসন। বাকি সব আসন পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তাহলে দুই দল একপর্যায়ের হয় কীভাবে? শনিবার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় চারবছর পর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার আমলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, গ্রেনেড হামলা, পাঁচশ জায়গায় একই সঙ্গে বোমা হামলা, ৬৩ জেলায় বোমা হামলা, দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন। তারা মানুষকে কিছু দেয়নি, মানুষের অর্থ লুট করে বিদেশে নিয়ে গেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, তারা নিজেরাই দলের গঠনতন্ত্র মানে না। বিএনপির গঠনতন্ত্রেই আছে সাজাপ্রাপ্ত কেউ দলের নেতা হতে পারবে না। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক দুই জনই সাজাপ্রাপ্ত। অথচ তারাই সেই দলের নেতা। সুতরাং সেই দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা চলে না। যারা তুলনা করে ভুল করেন। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল গঠন হয়েছে আওয়ামী লীগ। আর জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে। বিএনপি মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়। তারা সন্ত্রাস করে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের তুলনা হয় না। আওয়ামী লীগকে সাধারণ মানুষের সংগঠন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি দুর্নীতি করলেও আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের উন্নয়ন করে। পদ্মাসেতুর কারণে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ আসা সম্ভব হচ্ছে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তালিমপুর তেলিহাটি হাইস্কুল মাঠে জনসভায় উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আগেই মাঠে জড়ো হন। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মাঠে প্রবেশ করেন নেতাকর্মীরা। রঙ-রংয়ের নানা প্ল্যাকার্ড হাতে, স্লোগান দিয়ে মিছিল সহকারে সমাবেশ আসেন নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে ক্ষমতায় এসেছি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। কারণ, দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আসিনি, জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছি। তাই কেউ যখন মিথ্যা অপবাদ দেয়, সে অপবাদ নিতে আমি রাজি না।
সরকারপ্রধান বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক অপবাদ দিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি। আমরা নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি বলেই আজ এত দ্রুত কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া এবং দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছি।
আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, আপনারা সবসময় আমার পাশে থাকেন। আমি আমার হারানো বাবা-মা, ভাই-স্বজনদের আপনাদের মাঝে খুঁজে পাই। করোনার মহামারির কারণে অনেক দিন আসতে পারিনি। তাই আজ আসার সময় আপনাদের জন্য কিছু উপহার নিয়ে এসেছি।
পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী কী উপহার এনেছি তা আপনাদের আমি পড়ে শোনাতে চাই। এরপর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পগুলো পড়ে শোনান সরকারপ্রধান।
প্রকল্পগুলো হলো-হলকুশলী জিসি-ধারবাশাইল জিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা, সোনাখালী সড়কে ১৪৭০ মিটার চেইনেজে ৯৯ মিটার গার্ডার ব্রিজ। কুশলী জিসি ধারাবাশাইল জিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা সোনাখালী সড়কে ১৬ হাজার ৬০০ মিটার চেইনেজে ২০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। সিঙ্গিপাড়া আরএইচডি-মুন্সিরচর ভায়া শেখ কামাল সড়কে ১২৭০ মিটার চেইনেজে ২০ মিটার আরসিসি স্লাব ব্রিজ। কুশলীহাট জিসিসি ধারবাশাইল জিসিসি ভায়া মিত্রডাঙ্গা সোনাখালী সড়কে সাত হাজার ৭৫০ মিটার চেইনেজে ৭৫ মিটার আরসিসি ব্রিজ। কুশলী ইউনিয়ন কৃষক সেবা কেন্দ্র। বাঁশবাড়িয়া জিসি ঝনঝনিয়া-ঘাঘর জিসি সড়ক (চেইনেজে০০-১২৬৩৫মিটার)।
বাঁশবাড়িয়া জিসি-বিশারকান্দি জিসি ভায়া করফা বাজার, তরু বাজার, কাচারিভিটা বাজার সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ (চেইনেজে ০০-৯২২৫ মিটার)। কোটালীপাড়া উপজেলার বঙ্গলক্ষী বাজার থেকে রামশীল ইউপি অফিস সড়কে ৬৮১৫ মিটার চেইনেজে ৯৯ দশমিক ৭০ মিটার আরসিসি ব্রিজ।
উত্তরপাড়া হাটখোলা ব্রিজ হতে পারকোনা পৌরসভা বাসস্ট্যান্ড ভায়া কুঞ্জুবন সড়কে ৩৫০০ মিটার চেইনেজে ৪২ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। ছিকুটিবাড়ী মাইকেল চেয়ারম্যানের বাড়ীর সড়কে ৫৬০ মিটার চেইনেজে ১৮ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাধাগঞ্জ ইউপিসি-উত্তরপাড়া হাটখোলা-নাগরা বাজার সড়কে ২৫ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। দেবগ্রাম আশ্রায়ণ প্রকল্পের সামনে ৩০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাধাগঞ্জ ইউপিসি-ডগলাস হাইস্কুল-ভাঙ্গারহাট জিসি সড়কে ১০ মিটার চেইনেজে ৩৯ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। রাজৈর কোটালীপাড়া সড়ক হতে লুৎফর রহমান বাচ্চুর বাড়ি ছোট দিঘলিয়া জিপিএস সংযোগ সড়কে ৩০ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। কুশলা ইউপি থেকে টুপুরিয়া আরএ্যান্ডএইচ সড়কে ২৪৩০ মিটার চেইনেজে ৩৬ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। টুপুরিয়া আরএ্যান্ড এইচ হতে কুশলা ইউপিসি ভায়া জামুলা সড়কে আট মিটার চেইনেজে ৩০ মিটার গার্ডার ব্রিজ। হরিণাহাটি ডিবি-হরিণাহাটি জিপিএস সড়কে ১০ মিটার চেইনেজে ৫১ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। সাদুল্যাপুর ইউপিসি হতে চলবল বাজার সড়ক (চোইনেজে ৮০০-৬৩৪০ মিটার)।
নাগরা আরএইচডি-বান্ধাবাড়ী-রামশীল-শশীকর জিসি সড়ক চেইনেজে পাঁচ হাজার ২০০ ধেতে ১৪ হাজার ৪০৫ মিটার প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ। নাগরা বাজার-রামশীল ইউপি সড়ক চেইনেজে তিন হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার ৯৯০ মিটার প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ। কদমবাড়ী-কালিগঞ্জ-গান্ধিয়াশুর জিসি সড়ক নির্মাণ চেইনেজে শূন্য থেকে ছয় হাজার ২৫৬ মিটার। কোটালীপাড়া সদর ভূমি অফিসের সামনে আর অ্যান্ড এইচ বিশারত বাড়ি পর্যন্ত সড়কে শূন্য মিটার চেইনেজে ১৮ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। কাগডাঙ্গা চেয়ারম্যান বাড়ী হতে কাটাভিটা ভায়া এমএ সাইদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়ক (চেইনেজে ০০-১৩২০ মিটার) ইউনিব্লক দ্বারা উন্নয়ন। চাটখালি ব্রিজ-মহিষডাঙ্গা ভায়া ফুলবাড়ি জিপিএস সড়ক নির্মাণ (চেইনেজে ০০-৮১৬০ মিটার)। চিতশী জিপিএস কান্দিপাড়া ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সড়ক নির্মাণ (চেইনেজে ২৫০০-১১১০০ মিটার)।
আশুতিয়া শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন দাড়িয়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর। শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক সেবাকেন্দ্র। কেটালীপাড়া উপজেলা হেডকোয়ার্টার হতে ধারবাসাইল কান্দি সড়ক নির্মাণ (০০-১১৩৪৪ মিটার)। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পগুলো হচ্ছে, কোটালীপাড়া উপজেলার আটাশীবাড়ী, তালপুকুরিয়া ও ধারাবাশাইল এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ও রামচন্দ্রপুর গ্রামে আধুনিক যান্ত্রিক কৃষির সমলয় চাষাবাদ পদ্ধতি প্রকল্প। কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন। শেখ হাসিনা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের ১০০ আসনের নব নির্মিত ছাত্রী হোস্টেল ও কোটালীপাড়া এসএস ইনস্টিটিউশনের নব নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প ও কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল ইউনিয়নে একটি রুরাল। তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপতি শেখ রাসেল পাঠাগার প্রকল্প। গোপালগঞ্জ পৌরসভার কর্তৃক বড়বাজারে নির্মিত অত্যাধুনিক বানিজ্যিক ভবন ও স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড।
গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ বাস্তবায়িত কোটালীপাড়ায় কবি সুকান্ত ভট্টাচর্যের পৈত্রিক ভিটায় নির্মিত একটি মুক্ত মঞ্চ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত কোটালীপাড়া উপজেলার লাখিরপাড় রমমোহন উচ্চবিদ্যালয়ে বণ্যা অশ্রয়ণ কেন্দ্র। কোটালীপাড়া পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত পৌরসভা কিচেন মার্কেট।
এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণপূর্তের গোপালগঞ্জ জেলা তথ্য কমপ্লেক্সে, কোটালীপাড়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সংস্কৃতিক কেন্দ্র, এলজিইডির কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ওপর ম্যুরাল নির্মাণ প্রকল্প, রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গারহাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্প ও কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক গৃহীত ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলক স্থাপন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জনস্রোত দেখা যায় জনসভাস্থল কোটালীপাড়ার ভাঙ্গারহাট তালিমপুর তেলিহাটি হাই স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকায়। নিজ আসনের সংসদ সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মাঠের দিকে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। জনসভাস্থলে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন সকাল থেকেই। এরপর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
জনসভা শুরু হওয়ার আগে সকাল ১০টার দিকেই জনসভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে বাইরে বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কে অবস্থান নেন অনেকে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ, গোপালগঞ্জ পৌরসভা, গণপূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কোটালীপাড়া পৌরসভা, গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথা দিয়েছিলাম ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেব, সব ঘর আলোকিত করেছি। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিশ্বব্যাপী সংকট চলছে। আমরা বিদ্যুতে অর্ধেকের বেশি ভর্তুকি দিচ্ছি। আগে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসতে সময় লাগত ২২ ঘণ্টা। আর আজ ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়। এটা সম্ভব হয়েছে পদ্মা সেতুর কল্যাণে। বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়েই চলে। কেউ অপবাদ দিলে মানবো না।
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আট মাসের মধ্যে ষষ্ঠ বারের মত পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তার বহরের ১২টি গাড়ির জন্য ১১ হাজার ৬৫০ টাকা টোল পরিশোধ করা হয়। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নিজের নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় জনসভা করতে গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথে তার গাড়ি বহর সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে মাওয়া টোল প্লাজায় ৬ নম্বর লেন দিয়ে সেতু এলাকায় প্রবেশ করে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি সেতু অতিক্রম করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী গত বছরের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর প্রথম পদ্মা সেতু অতিক্রম করেন। এর ১০ দিনের মাথায় ৪ জুলাই ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ পদ্মা সেতু পাড়ি দেন তিনি। পরে ৪৯ দিনের মাথায় ১২ আগস্ট ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ পদ্মা সেতু পার হন সরকার প্রধান। গত ৭ অক্টোবর ১০৫ দিনের মাথায় বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে চতুর্থবারের মত পদ্মা সেতু অতিক্রম করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ৫ম বারের মত সেতু অতিক্রম করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ ফারুক খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম কামাল হোসেনসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকেন।








