মিথুন আশরাফ – ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে সংস্থাটির ট্রেনিং কমপ্লেক্সে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার টানা ক্ষমতায় থাকায় জনগণ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা সরকারে থাকায় উন্নয়ন ত্বরান্বিত ও দৃশ্যমান হয়েছে, মানুষ তার সুফল পাচ্ছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ। উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতি কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবো।
* বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে ৪৫ জন ফায়ার ফাইটারকে পদক দেওয়া হয়েছে
* বিশ্বমন্দার ধাক্কা যাতে বাংলাদেশে না লাগে, সে জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে
* ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি কর্মী মানুষের কাছে দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে প্রতীয়মান
* আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি করার উদ্যোগ নিয়েছি
* আমাদের আগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না, আমরা এগিয়ে যাবো
* ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ
* মন্দার প্রভাব মোকাবিলায় আমাদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে ৪০ থেকে ৫০টার মত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ছিল। তখন এ বাহিনীকে সবাই দমকল বাহিনী বলতো। আর আমরাই প্ল্যান নিয়েছিলাম প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি করব। তখন শেষ করতে পারিনি। ২০০৯ সালে আবারও আমাদের কার্যক্রম শুরু করি, এটি এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
ফায়ার সার্ভিস যেনো উন্নত মানের প্রশিক্ষণ পায় সেই উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফায়ার একাডেমি করার উদ্যোগ নিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসের এক হাজার ১৮৪ জনকে বিদেশে পাঠিয়ে পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের জনবল ৬ হাজার ১৭৫ জন থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৪৪৩ জনে উন্নতি করেছি।
দেশে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এখন ৪৯১টি। আরও ৫২টি নতুন স্টেশন চালু হবে। এর ফলে প্রায় ৭ শতাধিক স্টেশন চালু হবে। ‘দুর্ঘটনা-দুর্যোগ হ্রাস করি, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২২। অগ্নিনির্বাপণ ও নানা দুর্যোগে দায়িত্ব পালন করা সংস্থাটি বুধবার পর্যন্ত তিন দিনের জন্য ‘ফায়ার সপ্তাহ-২০২২’ ঘোষণা করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অথিতির হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমেদ ও মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এতে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে ৪৫ জন ফায়ার ফাইটারকে পদক দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পদক হস্তান্তর করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো ঝুঁকি হ্রাস করা, মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি উন্নয়ন কাজ দ্রুত ও মানসম্মত করাই সরকারের প্রচেষ্টা। অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০২১-এর লক্ষ্য পূরণের মতো ২০৪১ সালের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও পূরণ করা হবে। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের উন্নয়নের গতি কিছুটা হলেও ধীর হয়ে গেছে। বিশ্বের নানা দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে। আমাদের এখন থেকে মন্দা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশ্ব মন্দার ধাক্কা যেন আমাদের ওপর না লাগে এ জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের আগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাবো।
ফায়ার সার্ভিসের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নি বা যেকোনো দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস সবার আগে ছুটে যায়। এ বাহিনীকে তাই যুগপোযোগী করা দারকার। আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। সংস্থাটি যেন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।
সরকারপ্রধান বলেন, এক সময় বহুতল ভবনে ফায়ার সার্ভিস অগ্নি নির্বাপণে কাজ করতে পারতো না। আমরা সেই অসুবিধা দূর করতে ৬৮ মিটার লেদারের ৫টি গাড়ি কিনেছি। নদী পথে তাদের কাজের সক্ষমতা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফায়ার ফাইটারদের ট্রেনিংয়ে সব জেলায় ৫ একর এবং ঢাকা জেলায় ১০ একর করে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার দিকেও আমরা দৃষ্টি দিয়েছি। যারা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করছে, তাদের জীবন সুন্দর করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের সম্মানি ও পদক বাড়ানো হয়েছে। ভাতা বাড়ানো হয়েছে। তাদের ২০ কোটি টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে আরও ২০ কোটি টাকা অনুদান দেবো। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সারা দেশে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার করতে সকল মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় এবং সকল বিভাগ ও জেলাসমূহে বেলা ১১টায় ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক। দেশ যতটা এগিয়ে যাবে, এ দেশের মানুষ তত ভালো থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে প্রত্যেকটা ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে বিনা পয়সা ঘর করে দিচ্ছি। তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। বিদ্যুৎ প্রায় গ্রামে পৌঁছে দিয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে, শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নত হবে। সেই লক্ষ্যই আমরা বাস্তবায়ন করবো।
ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে আওয়ামী লীগে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি আমরা এ সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। কারণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের জীবনটা যাতে ভালোভাবে চলে সেটাও দেখা আমাদের দায়িত্ব। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রেশনের ব্যবস্থা করা এবং ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আমরা ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছি। আমি মনে করি, যেহেতু সংখ্যা বেড়ে গেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে আরও ২০ কোটি টাকা আমি অনুদান দেবো।
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে এই প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৭টি অগ্নিদুর্ঘটনায় অংশ নিয়ে ১৬ হাজার ৩০৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৯টি অ্যাম্বুলেন্স কলের মাধ্যমে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৯ জন রোগী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিটি কর্মী মানুষের কাছে দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে প্রতীয়মান।








