স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘কারও কাছে কোনো দিন মাথা নত করিনি, জীবন ভিক্ষা চাইনি। আমি পরিবার থেকে, বাবার কাছ থেকে এটা শিখছি যে কারও কাছে বা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।’-কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা গণভবনে গিয়ে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারামুক্তি দিবসের শুভেচ্ছা জানান। এমন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কথাগুলো বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে সবসময় উজানে নাও ঠেলে চলতে হয়েছে। যতবার গ্রেপ্তার হয়েছি ততবারই নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে চিঠি দিয়েছি। চিঠির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নিদের্শনা দিয়েছি, দেশবাসীকে চিঠি দিয়েছি। দেশে ফেরার পর ৮৩ সালে এরেস্ট করা হয় ডিজিএফ আই অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও চাপে বাধ্য হয়, আমাকে মুক্তি দিতে।’
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাবজেল থেকে শেখ হাসিনাকে মুক্ত করতে মাত্র ১৫ দিনে ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আওয়ামী লীগ। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জেনারেল নেতাকর্মীরা সব সময় ঠিক থাকে। এটা বাবার সময়ও দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও আন্দোলন ও চাপে বাধ্য হয় আমারে মুক্তি দিতে।’ তিনি বলেন, ‘জেলে বসে দেশ কিভাবে চালাব, দল কিভাবে চালাবে সেসব লিখে রেখেছিলাম।’
আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮০ সালে ৬ ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাকে সভাপতি নির্বাচিত করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। সেদিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার জনতা জড়ো হয়েছিল তেজগাঁওয়ের পুরনো বিমানবন্দরে। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় বিমানবন্ধর এলাকা। ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃ হত্যার বদলা নেব’, ‘‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগানে মুখরিত ছিল এলাকা।
বিমানবন্দর থেকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে, সেখানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক সমাবেশে শেখ হাসিনা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির জনকের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই। আমার আর হারাবার কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আপনাদের মাঝেই তাদেরকে ফিরে পেতে চাই।’
গত বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছর ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটা বাজেট দিয়েছি। উন্নত দেশে জিডিপি মাইনাসের ঘরে। আর আমরা ৫ ভাগের উপরে রেখেছি।’
যারা প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু মানুষ অর্জনকে অর্জন হিসেবে নিতে পারে না। কেন তাদের এই দৈন্যতা? বিনা পয়সায় যাদের ভ্যাকসিন দিয়ে তরতাজা করেছি, তারাই এখন সমালোচনা করছে।’
দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিএনপির ধারাবাহিক সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তোমরা মিথ্যাচার করো। আর আমরা কাজ করে তার জবাব দেই। বিএনপির জন্মই হল আজন্ম পাপ। জনগণ বিএনপির শক্তি নয়।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণই হল আমাদের শক্তি। জনমানুষের কল্যাণ আমরা বুঝি। আন্তর্জাতিকভাবে এত বাধা! তবুও নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করেছি। জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন। এ স্বাধীনতা বৃথা যেতে পারে না। আমরা আমাদের কাজ করে যাব। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে যাব।’ শনিবার গণভবনে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।








