,

চা শ্রমিকদের ঘর করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চা শ্রমিকদের ঘর করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার – মজুরি ১২০ টানা থেকে ১৭০ টাকা করা হয়েছে আগেই। কিন্তু তাতেও কী চা শ্রমিকদের দুঃখ, কষ্ট লাঘব হয়েছে? হয়নি। বাড়ি, ভিটা, রেশন সব স্থানেই তো তাদের ভোগান্তি। আর তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে চা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পকে কোনভাবেই ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। চা শ্রমিকদের ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

চা শ্রমিকদের আসলে দুঃখ-কষ্টের শেষ নেই। সেই কথাগুলোই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। প্রায় দুইশো বছর ধরে যে জনগোষ্ঠীটি গহীন-নির্মম পাহাড়কে নিজেদের রক্ত আর ঘামে অর্থকরী অরণ্যে পরিণত করেছেন শনিবার তাদের জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ হয়ে ধরা দেয়। প্রথমবারের মতো তারা সরাসরি কথা বলতে পেরেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। এরআগে যা কখনোই হয়নি।

বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের জীবনে এতো বড় ঘটনা আর কখনোই ঘটেনি। শনিবার বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন চা-বাগান শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চা শ্রমিকরা অবাক হয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রীকে। আনন্দের সীমা নেই তাদের। আনন্দঘন এ মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন আগেই নেওয়া হয়েছিল। প্রস্তুত করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগান ক্লাব বাংলার মাঠ। প্রথমে মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের সঙ্গেই যে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাত্রখোলা চা বাগানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নেছার আহমদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধরা।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানিয়েছিলেন, মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ দেখা গেছে। কারণ, প্রথমবারের মতো তারা দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন। আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পাত্রখোলা চা বাগান থেকে মূল কনফারেন্স প্রচারিত হবে। অন্যান্য চা বাগানে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে পুরো ভিডিও কনফারেন্সটি ২১টি স্পটে দেখানো হবে। এর আগে গত শনিবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা-বাগান মালিকদের বৈঠক করেন। এদিন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে চা-বাগান শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নতুন দৈনিক মজুরি অনুযায়ী চা শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়বে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কিন্তু চা শ্রমিকদের যে কষ্ট, তা কী দ্রুতই শেষ হবে? বাড়ি, ভিটা, রেশন সব স্থানেই তো তাদের ভোগান্তি। মজুরিতেও আছে কত হয়রানি! তিন ধরনের মজুরি পান তারা। হাজিরা, নিস্তি, নিস্তির উপরি। এ ছাড়া রেশনের সুবিধা থাকা স্বত্বেও মিলেনা রেশন। ঘর মেলার কথা। কিন্তু প্রতিদিন ঘরে থাকার জন্য ৭৮ টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ শোনা যায়। শুধু তাই নয়, ঘরের চালা কিংবা আশপাশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে বৃষ্টি আসলে ঘরে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। এসব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন চা শ্রমিকরা। মন খুলে কথা বলেন। চা শ্রমিকদের ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ