,

ত্যাগ স্বীকার করে অর্জনগুলো জনগণের কল্যাণে আনতে পেরেছি – প্রধানমন্ত্রী

ত্যাগ স্বীকার করে অর্জনগুলো জনগণের কল্যাণে আনতে পেরেছি - প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার – জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, মহান অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগ প্রয়োজন। যে কোনো অর্জনের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সেই ত্যাগ স্বীকার করতে পেরেছি বলেই আমাদের অর্জনগুলো একে একে আমরা জনগণের কল্যাণে আনতে পেরেছি। – কথাগুলো বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৩ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এই মহান স্বাধীনতায় যারা জীবন দিয়ে গেছেন, রক্ত দিয়ে লিখে দিয়ে গেছেন আমাদের স্বাধীনতার নাম। তাদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না। আমরা বৃথা যেতে দেবো না। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। মানুষের এই আত্মত্যাগ কখনো ব্যর্থ হতে পারে না।

পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখনই কিন্তু ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটতে শুরু করে। কারণ ক্ষমতাকে আমরা বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ হিসেবেই পাই। এর মাঝে অনেক চড়াই-উৎড়াই, অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এটুকু বলতে পারি, ২০০৮-এ নির্বাচিত হয়ে ২০২৩; এই একটানা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই কিন্তু আজকের উন্নয়নটা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, পঁচাত্তর থেকে আমরা যদি দেখি, বারবার গণতন্ত্র থমকে দাঁড়িয়েছে; গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকতে পারেনি; রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকতে পারেনি; কাজেই বাংলাদেশও সেভাবে এগোতে পারেনি। ক্ষমতাসীন যারা ছিল তাদের বাংলাদেশ নিয়ে কী চিন্তা-ভাবনা ছিল সেটা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না সিদ্ধান্ত নিয়ে আজকে আমরা গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছি। খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা—সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যায় তার জন্য যা যা করণীয় আমরা করেছি।

তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যের হার যেখানে ৪০ ভাগের উপরে ছিল সেখানে আমরা কমিয়ে এনেছি ২০ ভাগে। আরও একটি সুখবর দিতে পারব, আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও হ্রাস পেয়েছে। যেটা সঠিকভাবে এখন তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদা পেয়েছি, এটাকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও আমরা নিয়েছি। কারণ আমরা যা করেছি, সব কিছু পরিকল্পিতভাবে করেছি। কোনো কাজ অ্যাডহোক বেসিসে না। এই পদক্ষেপ নিলে আমার দেশ কোথায় যাবে। কতটুকু আমরা এগোতে পারব। গণমানুষের কতটুকু উন্নতি হবে। একটি সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। একদিকে যেমন আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা; প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, তারই সঙ্গে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ঠিক জনগণের কাজে কী লাগবে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যা করছি সব পরিকল্পিতভাবে করছি। আমাদের সরকার সবসময় গবেষণায় জোর দিচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক গবেষণায় আমরা জোর দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের পর করোনার ধাক্কা, এর পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এর পরও আমরা চেষ্টা করছি অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে।
সরকারপ্রধান বলেন, করোনার সময় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। রমজানে এক কোটি পরিবারকে কমমূল্যে পণ্য দিচ্ছি। আমরা ভর্তুকি দিয়ে রমজানের পণ্য তাদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমরা মানুষের কষ্ট যখন দেখি, তখন তা কীভাবে লাঘব করব সেই কাজ আমরা করছি।

তিনি বলেন, এতদিন টানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে। আর ক্ষমতাকে আমাদের কাছে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখি।
শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে তখন বলেছিলেন বাংলাদেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব না। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেছি। আমরা বলেছিলাম নিজেদের টাকায় সেতু করব। আমরা পদ্মা সেতু করে দেখিয়ে দিয়েছি বাংলাদেশ পারে। ক্ষমতাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ একটানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেই দেশের বর্তমান উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। অতীতের সরকারগুলোর দেশ নিয়ে কী ধারণা ছিল সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অ্যাডহক (অনির্ধারিত) ভিত্তিতে নয়, পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর তাই ক্ষমতাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আছে বলেই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে; তাই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।

তিনি বলেন, রক্তস্নাত স্বাধীনতা কখনও বৃথা যেতে পারে না; যেতে দেয়া হবে না। স্বাধীনতা পুরস্কারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যে আদর্শ ও যে চেতনা নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তা অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। এমন একটা সময় এসেছিল যে, মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা বলতে ভয় পেতেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা বললেই অবহেলার স্বীকার হতেন। সেটা সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থা ছিল। সেখান থেকে তাদের উত্তরণে কাজ করেছে বর্তমান সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ