স্টাফ রিপোর্টার – এই মাসটাই আছেন। এরপর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর বাংলাদেশ পর্ব শেষ হবে। এজন্য বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দোরাইস্বামী। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সফরে যাবেন। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সফর রয়েছে। আর দোরাইস্বামীর সাথে দেখা হওয়ার সুযোগ থাকছেনা। তাই বুধবারই বিদায়ী স্বাক্ষাৎ হয়ে গেল। গণভবনে এ স্বাক্ষাৎ হয়।
এরআগে এক এক করে আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন দোরাইস্বামী। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় হাইকমিশনার দোরাইস্বামীর সম্মানে বিদায়ী লাঞ্চের আয়োজন করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। সেখানে হাইকমিশনারকে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্যে পররাষ্ট্রসচিব দোরাইস্বামীকে বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ২০২০ সালের অক্টোবরের শুরুর দিকে ঢাকায় আসেন হাইকমিশনার দোরাইস্বামী। প্রায় দুই বছর ঢাকায় দায়িত্ব পালন শেষে নয়াদিল্লি ফিরে যাচ্ছেন দোরাইস্বামী।
ঢাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা চিরকাল স্মৃতিতে অম্লান থাকবে বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান বিক্রম দোরাইস্বামী। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতার কারণে অসামান্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্কে পরিণত হয়েছে।
দোরাইস্বামী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথেও স্বাক্ষাৎ করেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। সচিবালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে মন্ত্রীর প্রশংসা করেন তিনি। এ সময় ভারতের ঋণ সহায়তার আওতায় চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত ভালোভাবে শেষ করতে তাকে ও তার টিমকে পরামর্শ দেয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানান বিদায়ী হাইকমিশনার।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গেও সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। এ সময় সিইপিএ এবং উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, সিইপিএ হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ খুবই আশাবাদী। এতে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে এবং সেবা ও পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। ভারতকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র উল্লেখ করে টিপু মুনশি বলেন, ইতিমধ্যে উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বেড়েছে এবং আরও বৃদ্ধির সুযোগ আছে। উভয় দেশের আন্তরিকতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। দুই দেশের সরকারপ্রধানের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের সুযোগ-সুবিধার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এতে উভয় দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ভারতের পররাষ্ট্র বিভাগের ১৯৯৩ ব্যাচের কর্মকর্তা। বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে ২০২০ সালের আগস্টে তিনি নিয়োগ পান। আগের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে যুক্তরাজ্যের ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আগামী সপ্তাহে তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দেবেন।
ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী স্বাক্ষাৎ করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গেও। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান দোরাইস্বামী। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী রক্তের অক্ষরে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ এবং প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এ বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে।
হাছান মাহমুদ বলেন, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে। এ সফরে অনেক অর্জন আছে। যেমন কুশিয়ারা নদীর পানি আমাদের পক্ষে বণ্টন, ভারতের স্থলভাগের ওপর দিয়ে তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সুবিধা; যার জন্য আমরা বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম, আলাপ-আলোচনার মধ্যেই ছিলাম। সেটি এ সফরে সুরাহা হয়েছে। এটি একটি বড় অর্জন।
এ সফর সফল করার ক্ষেত্রে ভারতের হাইকমিশনার দোরাইস্বামীর অনেক বড় ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দোরাইস্বামী অত্যন্ত কর্মদক্ষ হাইকমিশনার। তাঁর কর্মকালে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীবন্ধন আরও মজবুত হয়েছে। আমি তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।
ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করোনা মহামারির সময়েও ম্লান হয়নি; বরং তা আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সমঝোতা হয়েছে। দুদেশের তথ্য ও সম্প্রচার ক্ষেত্রেও চুক্তি হয়েছে। এ সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে বলে আমার স্থির বিশ্বাস।








