স্টাফ রিপোর্টার – বাংলাদেশের মানুষ যেন খাদ্যে কষ্ট না পায় সেটাই সরকারের লক্ষ্য। প্রত্যেক পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ চলবে না। পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছে বলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্রির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর গাজীপুর পৌঁছান সরকারপ্রধান। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের বিভিন্ন উদ্ভাবন পরিদর্শন করেন।
দেশের মানুষ যেন খাদ্যকষ্ট না পান সরকার সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। মাঠে কাজ করা ও ফসল ফলানো গৌরবের বিষয়। সেভাবে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। উচ্চফলনশীল বিভিন্ন শস্য উৎপাদনে নিবিড় গবেষণায় সরকার নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত গবেষণা হয়েছে বলেই, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসস্পূর্ণ হয়েছে। কৃষিখাতে গবেষণা ছাড়া কখনোই অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বিএনপির আমলের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির আমলে সার দাবি করায় কৃষককে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিদ্যুতের দাবি করায় ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরির আন্দোলন করায় ১৭ জন শ্রমিককে রমজান মাসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তখন থেকে আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল, কৃষককে সারের পেছনে ছুটতে হবে না। সার কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি।
এ সময় ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ধানের জন্য কৃষিবিদ ও গবেষকদের ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান। বলেন, প্রাকৃতিক বৈরী পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিদেশিদের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ চলবে না। প্রত্যেকটা পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করতে চায় সরকার। মোবাইল ফোন সবার হাতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সার কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। সেই ব্যবস্থাই আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর নিয়েছে। কৃষিবান্ধব নীতির কারণেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
ব্রি’র গৌরব ও সাফল্যের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেলুন ও পায়রা উড়ান। এরপর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্রি’র ইনোভেশনস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ব্রি’র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পাঁচটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব ফুড সিকিউরিটির (সিইইউ) নির্বাহী পরিচালক ড. স্টেভিন ওয়েব।








