,

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন : কুসিক মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন : কুসিক মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অংকের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনির্বাচিত মেয়র আরফানুল হক রিফাত ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন আর রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পরিবহনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আগের মতো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। শুধু আমাদের দেশে না, প্রত্যেকটা দেশেই এখন জিনিসের ঘাটতি। এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে আমরা যদি একটু সাশ্রয় করে চলি, মিতব্যয়ী হই এবং নিজেরা নিজেদের সঞ্চয়টা বাড়াতে পারি তাতে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।

এসময় মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা নিয়ে কাজ করলে, মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলে, বারবার জনমর্থন পাওয়া যায়। ভোটারদের বিশ্বাস ও আস্থা ধরে রাখতে হবে জনপ্রতিনিধের। জনগণের প্রতি আপনাদের যে দায়িত্ব, কর্তব্য আপনারা যা যথাযথভাবে পালন করবেন। মানুষের ওপর আস্থা থাকে। যে বিশ্বাস নিয়ে নিয়ে ভোটররা ভোট দিয়েছেন তা ধরে রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতেই কাজ করছে। মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে বলেই বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুসিকের নবনির্বাচিত মেয়রকে শপথবাক্য পাঠ করান। আর কাউন্সিলরদেরকে শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

নির্বাচিত হওয়ার ২০ দিন পর শপথ নেন মেয়রসহ সব কাউন্সিলররা। দীর্ঘ ৩১ বছর পর নগর পিতার আসনটি উদ্ধার করেছে আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ পৌরসভার আমলে ১৯৮৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের দলীয় পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এরপর আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেননি। গত ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে আ.লীগ দলীয় প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১০১টি কেন্দ্রে তিনি ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়েছেন।

রিফাতের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টেবিল ঘড়ি প্রতীকের মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হয়। কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন নারী ভোটার এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে দুজন। ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি সম্মিলিত নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিএনপি নেতা মো. মনিরুল হক সাক্কু ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনিরুল হক দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। এবার তিনি আরফানুল হক রিফাতের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারেননি।

 

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হোন : কুসিক মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

কুসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিজয়ীরা হলেন-

 

১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী সাবেক কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া।

২নং ওয়ার্ডে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী গোলাম সরওয়ার শিপন।

৩নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সরকার মাহমুদ জাবেদ।

৪নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন নাজিম।

৫নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ রায়হান।

৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আমিনুল ইকরাম।

৭নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আবদুর রহমান।

৮নং ওয়ার্ডে জামায়াত অনুসারী একরাম হোসেন বাবু।

৯নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জমীর উদ্দিন খান জম্পি।

১০নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুর কাদের মনি।

১১নং ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর আল আমিন সাদী।

১২নং কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিয়াউল হক মুন্না।

১৩নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত রাজিউর রহমান রাজিব।

১৪নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আবুল কালাম আজাদ হাসেম।

১৫নং ওয়ার্ডে সাইফুল বিন জলীল।

১৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ অনুসারী জাহাঙ্গীর হোসেন বাবুল।

১৭নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ অনুসারী হানিফ মাহমুদ।

১৮নং ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শওকত আকবর।

১৯নং ওয়ার্ডে রেজাউল করিম।

২০ নং ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন।

২১ নং ওয়ার্ডে কাজী মাহাবুবুর রহমান।

২২নং ওয়ার্ডে মো. আজাদ হোসেন।

২৩ নং ওয়ার্ডে আনিসুজ্জামান আনিস।

২৪ নং ওয়ার্ডে মহিবুর রহমান তুহিন।

২৫ নং ওয়ার্ডে এমদাদ উল্লা বিএসসি।

২৬ নং ওয়ার্ডে আব্দুস সাত্তার।

২৭ নং ওয়ার্ডে আবুল হাসান।

 

সংরক্ষিত আসনে বিজয়ীরা হলেন-

 

সংরক্ষিত আসন-১ (ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩) মহানগর আওয়ামী লীগ সদস্য কাউছারা বেগম সুমি,

সংরক্ষিত আসন-২ (ওয়ার্ড ৪, ৫ ও ৬) আওয়ামী লীগ অনুসারী নাদিয়া নাসরিন,

সংরক্ষিত আসন-৩ (ওয়ার্ড ৭, ৮ ও ৯) আওয়ামী লীগ অনুসারী উম্মে কুলছুম মুনমুন,

সংরক্ষিত আসন-৪ (ওয়ার্ড ১০, ১১ ও ১২) বিএনপি অনুসারী রুমা আক্তার,

সংরক্ষিত আসন-৫ (ওয়ার্ড ১৩, ১৪ ও ১৫) আওয়ামী লীগ অনুসারী নূর জাহান আলম পুতুল,

সংরক্ষিত আসন-৬ (ওয়ার্ড ১৬, ১৭ ও ১৮) আওয়ামী লীগ অনুসারী নেহার বেগম,

সংরক্ষিত আসন-৭ (ওয়ার্ড ১৯, ২০ ও ২১) বিএনপি অনুসারী তাহমিনা আক্তার লিন্ডা,

সংরক্ষিত আসন-৮ (ওয়ার্ড ২২, ২২ ও ২৪) বিএনপি অনুসারী ফারহানা পারভীন,

সংরক্ষিত আসন-৯ (ওয়ার্ড ২৫, ২৬ ও ২৭) আওয়ামী লীগ অনুসারী শাহিনা আক্তার।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ