শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন

নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করলে সব বিদ্বেষ দূর হয়ে যায় - মো. সাহাবুদ্দিন

স্টাফ রিপোর্টার – মো. আবদুল হামিদের উত্তরসূরি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ছাড়া আর কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা কাজী হাবিবুল আউয়াল সোমবার মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একমাত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এখন প্রজ্ঞাপন জারিটাই শুধু বাকি। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাহাবুদ্দিনের নির্বাচিত হওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু কোন প্রার্থীই নেই। তাই আর সংসদে আর কোন ভোটাভুটিরও প্রয়োজন পড়েনি।

সিইসি বলেন, দুটি মনোনয়নপত্রজমা দেওয়া হয়েছিল একই প্রার্থীর নামে। এরমধ্যে একটি পরিপূর্ণভাবে বৈধ হওয়ায় অন্যটি আর গ্রহণের দরকার পড়েনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন।

১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা সাহাবুদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৬ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরে যান।

ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাহাবুদ্দিন। পরে সামলেছেন পাবনা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করে সে সময় ক্ষমতাদখলকারীরা। সাহাবুদ্দিনকেও তখন কারাবরণ করতে হয়।

পেশায় আইনজীবী সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে যোগ দেন। বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা হয়, যাতে হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ওসব ঘটনার তদন্তে ‘কমিশন’ গঠন করে, যার প্রধান ছিলেন সাহাবুদ্দিন।

তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির চেয়ারম্যান পদে তাকে মনোনীত করা হয়। দলের সর্বশেষ কাউন্সিলে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সাহাবুদ্দিন এক পুত্রসন্তানের বাবা। তার স্ত্রী প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব ছিলেন। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ