সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুবলীগের মহাসমাবেশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যুবলীগের মহাসমাবেশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার – আওয়ামী যুবলীগের মহাসমাবেশ উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে আওয়ামী যুবলীগের মহাসমাবেশ শুরু হয়।
আওয়ামী যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তীতে মহাসমাবেশের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশ স্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। উদ্বোধনীতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলন করা হয় দলীয় পতাকা। এ ছাড়া বেলুন ও পায়রা ওড়ানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

যুবলীগের মহাসমাবেশ শুরুর আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। নেতা-কর্মীরা নীল, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙের টি-শাট ও টুপি পরে মহাসমাবেশে এসেছেন। মহাসমাবেশে যোগ দিতে সকাল থেকেই যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের হাজারো নেতা-কর্মীকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যেতে দেখা যায়। তাঁরা বাস, পিকআপ, মোটরসাইকেলে করে মহাসমাবেশস্থলের দিকে যান। অনেকে আবার পায়ে হেঁটে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান। যুবলীগের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন – একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাংবাদিক, কলাম লেখক, ছোট গল্পকার, তাত্ত্বিক দার্শনিক ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দ্রষ্টা। আপদমস্তক দেশপ্রেমে গড়ে ওঠা শেখ ফজলুল হক মনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের কারণে বিপ্লবী বীর খেতাব পরিচিতি পান মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই।
বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই শেখ ফজলুল হক মনি’র রাজনীতি আসা। ঘটনাক্রমে জানা যায়-বঙ্গবন্ধুর মেজ বোন শেখ আছিয়া বেগম (শেখ মনির মা) স্বামীর চাকরিসূত্রে কলকাতায় থাকতেন। বঙ্গবন্ধু কলকাতায় থাকার সময়ে অধিকাংশ সময় এই বোনের বাড়িতে থাকতেন।

কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই আছিয়া বেগম এবং তার স্বামী। সক্রিয় রাজনীতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা পেতেন। বঙ্গবন্ধুর চার বোন, এক ভাই ছিলেন একই বোধের, পরম আস্থার।

শেখ ফজলুল হক মনি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেজ বোন শেখ আছিয়া বেগমের বড় ছেলে, বঙ্গবন্ধুর আদরের ভাগ্নে। শেখ মনি’কে বঙ্গবন্ধু বোনের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলেন। বোনকে তিনি বলেছিলেন, বুজি তোমার মনিকে আমারে দাও, ও রাজনীতি করুক।

বঙ্গবন্ধু বোন শেখ আছিয়া বেগম বলেন – তুমি রাজনীতি করো তাতেই আমরা পুরো পরিবার উৎকণ্ঠায় থাকি। বঙ্গবন্ধু –বুজি রাজনীতিতে আমার তো কেউ ছিলো না, মনি’র তো আমি আছি। এরপর বোন আর তাকে না করতে পারেন নাই। তারপর আর পিছন দিকে তাকাতে হয়নি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যমত সংগঠক জনশ্রুতিতে চৌকস রাজনৈতিক পরিচয়ে বিশ্ব সমাদৃত যুব নেতা যুব রাজনীতির মহানায়ক হয়ে উঠেন শেখ ফজলুল হক মনি।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সাতটি জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৯ সালে সর্বশেষ সপ্তম কংগ্রেস হয়। আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে এবং পেশায় একজন শিক্ষক। এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শেখ পরশের মানবিক পরশে আজ ‘মানুষের জন্য যুবলীগ মানবিক যুবলীগ’! বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, মানুষ নানা সংকটে জর্জরিত ঠিক তখনি রাজপথের লড়াই সংগ্রামের সংগঠন যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং পিতার আদর্শ সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করে স্বার্থরক্ষায় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ দিবা-রাত্রি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি প্রাচীন সংগঠনটিতে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার যুব সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মাত্রা যোগ করেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত ও নন্দিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি মানবিক কাজে নেতাকর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে শহর-নগর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক যুবলীগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ