স্টাফ রিপোর্টার – আমাদের সকলের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব। কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৩তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ভবন নির্মাণসহ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেন বাংলাদেশ আনসার বাহিনী চলতে পারে সে জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আনসার বাহিনীর আধুনিকায়নে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক সুবিধা সম্বিলিত ২৭টি উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন অফিস ভবন নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯টির কাজ শেষ হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আনসার বাহিনী যেন চলতে পারে সেদিকে লক্ষ রেখে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। এই দেশ আর পেছনে ফিরে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা তথ্য প্রযুক্তিতে যে পদক্ষেপ নিয়েছি তাতে এই বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। আজকে শতভাগ বিদুৎ দিতে পেরেছি, আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ চালু করেছি, মেট্রোরেল চালু হয়েছে, পাতাল রেল চালু হবে, কর্ণফুলী নদীতে ট্যানেল করে দিচ্ছি, পদ্মাসেতু নিজেদের অর্থায়নে করে দিয়েছি। আর এসব প্রতিটি স্থাপনায় আনসার বাহিনী বিশেষভাবে জড়িত।
আনসার সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা পুরস্কার পেয়েছেন, মেডেল পেয়েছেন তাদেরকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি চাই এভাবেই আপনাদেরকে কাজের স্বীকৃতি দিতে, যাতে কাজের উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। আজকে চমৎকার কুচকাওয়াজ উপহার দিয়েছেন আপনারা। আনসার একাডেমির কোরিওগ্রাফি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত চমৎকার হয়। আপনারা ডিসপ্লে এতো চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন, এই ক্ষেত্রে আনসার বাহিনী সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এই বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গ্রেডে উন্নীত করা এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিশেষায়িত গ্রেড ও নতুন ব্যাটেলিয়ান গঠন করে দিয়েছি। বেতন বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। ইউনিয়ন ব্যাটালিয়নদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণ আনসার সদস্যদের ভাতা বৃদ্ধি ও নতুন রেশন সামগ্রী সংযোজন করা হয়েছে। হিল আনসারদের স্থায়ীকরণের কার্যক্রমও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারিতে অর্থনীতির উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তার সাথে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুধু আমাদের দেশ না, সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা গেছে। আমাদেরকে এখান হতে মুক্ত রাখতে হবে। আমাদের ১ ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। যত অনাবাদি জমি আছে সব আবাদ করতে হবে। যেক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের আনসার বাহিনী, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। গ্রামের লোকজনকে শেখানো, তাদের দিয়ে কাজ করানো, ফসল উৎপাদন ও সেগুলো সংরক্ষণ করা বিষয়ে আপনারা অবদান রাখতে পারেন।
তার আগে বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে বাহিনীর কর্মকর্তা, ব্যাটালিয়ন আনসার, সাধারণ আনসার, ভিডিপি-টিডিপি সদস্যদের সমন্বয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট মো. ফখরুল আলম।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য-সদস্যাদের অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি বুদ্ধিমত্তা, একনিষ্ঠতা, সততা, দূরদর্শিতা, মমত্ববোধ প্রভৃতির দৃষ্টান্তপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আট ক্যাটাগরিতে ১৮০ জনকে সাহসিকতা ও সেবা পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আনসার ভিডিপি একাডেমির সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম জানান, অনুষ্ঠান শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ছয় দফা দাবিকে ভিত্তি ধরে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতার পথে’, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ১২ জন আনসার সদস্যের ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের ভাস্কর্য এবং একাডেমির মূল ফটকের দুই পাশে নির্মিত ম্যুরাল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।








