,

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল বলেই দেশের উন্নতি সম্ভব হয়েছে – প্রধানমন্ত্রী

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল বলেই দেশের উন্নতি সম্ভব হয়েছে - প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার – একমাত্র ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল বলেই দেশের উন্নতি হয়েছে। উন্নতি সম্ভব হয়েছে। কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবন থেকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ১১টি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজ শুরু করেন বঙ্গবন্ধু কিন্তু তাকে হত্যার পর থেমে যায় দেশের উন্নয়ন। কারণ, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাপ্রধান হলেন তিনিই একদিন নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিলেন। এই ঘোষিত রাষ্ট্রপতি ও অনির্বাচিত লোক দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয় না, এটা প্রমাণিত সত্য। ২১ বছরে দেশের উন্নয়নটা হতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। জনগণের উন্নয়ন অন্ততপক্ষে আমরা করতে পেরেছিলাম। বিদ্যুৎ, সাক্ষরতার হার বাড়িয়েছিলাম, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো হয়েছিল।
শেখ হাসিনা বলেল, দ্বিতীয়বার আবার ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করে সরকার গঠন করি। আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দেশকে। যার কারণে ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আজ দেশের উন্নতি হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে, একমাত্র ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল বলেই।

 

আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না জনগণকে নিয়ে কাজ করে – শেখ হাসিনা

 

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকারে ছিল বলেই, দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। যদি ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক ধারা না থাকত, এ দেশ কিন্তু এত উন্নত হতে পারত না।

গত ১৪ বছরে দেশের সব শ্রেণির মানুষের উন্নয়ন হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত না থাকলে সম্ভব হতো না এ উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সারাবিশ্ব যখন মন্দার মুখে তখনও অর্থনীতির গতিধারা ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। তবে সরকার কেবল আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নয়, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায়ও কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম কেবল রাজধানী কেন্দ্রিক নয়, একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত।

২০২৩ সাল হবে মন্দার বছর, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। দেশে যেন এর ধাক্কা না লাগে, সেজন্য এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার ব্যাপারে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারেও সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাপ্রধান করা হয় জিয়াউর রহমানকে। ওই প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতার হত্যার পর যিনি সেনাপ্রধান হলেন, তিনিই একদিন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেন। অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয় না, এটা প্রমাণিত সত্য।

সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা মানুষকে একটি উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ৭৫-এর পর তা হয়নি। বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে। স্বাধীন গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হয় তখন। সংবিধান অমান্য করে মার্শাল ল জারি, সম্পূর্ণ সংবিধান পরিপন্থি। ২১ বছর এভাবে সরকার পরিচালিত হয়েছে। যারা উন্নয়নের যে গতি তা ব্যাহত হয়েছিল।

নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধি রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে বলেই দেশে এখন এত উন্নয়ন হচ্ছে বলে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, যদি এই ধারা না থাকতো, তাহলে দেশ কিন্তু এত উন্নত হতে পারত না। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগের বাংলাদেশ, স্যাটেলাইট যুগের বাংলাদেশ। পরমাণু শক্তির সঙ্গেও যুক্ত হতে পেরেছি। আমরা পরমাণু বোমা বানাবো না, কিন্তু পরমাণু বিদ্যুৎ তৈরি করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ