,

২ কোটি ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ। যেখানে দুই কোটি ৩৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান আমরা সৃষ্টি করেছি। আমাদের বেকারত্বের হার এখন ৩.২ শতাংশ। সেটা খুবই নামমাত্র। আমরা কাজ করার অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। শনিবার (৭ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রপ্তানি ও আমদানি অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে আমরা ১৮ দশমিক ৭ ভাগে নামিয়ে এনেছি। যদি কোভিড-১৯ না হতো, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ কিংবা স্যাংশন না হতো তাহলে আরও ২ শতাংশ দারিদ্র্যের হার আমরা কমিয়ে আনতে পারতাম। অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৫ দশমিক ৫ ভাগ, সেটা আমরা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি। সেই সঙ্গে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৬৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। এভিয়েশন খাত আরও উন্নত হোক। আমরা বাংলাদেশে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমি এটুকু বলতে পারি, অতীতে আর কোনো সময়ে এভিয়েশন খাতে এত উন্নয়নের পদক্ষেপ কেউ নেয়নি। ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৭/০৮ সাল পর্যন্ত এই ২৯ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা কেউই দেশের মানুষকে কিছু দিয়ে যেতে পারেননি। তবে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের সুবিধার জন্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মানুষের ভেতরে একটা আত্মমর্যাদা বোধ তৈরি করতে পেরেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদাই না, উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আমরা স্বীকৃতি পেয়েছি। গত ১৪/১৫ বছর ধরে সরকার অনেক উন্নয়ন করে যাচ্ছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের। তাদের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ১০ কোটি মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। যাতে করে কোনোমতেই তারা কষ্টে না থাকে। সে ব্যবস্থা আমরা করছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সারা বিশ্ব আজ চিন্তিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডেল্টা প্লান ২১০০ তৈরি করেছি। ২০০৮ এর নির্বাচনে ইশতিহারে ঘোষণা দিয়েছিলাম রূপকল্প-২১। ২০২০ সালে আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করেছি। সুবর্ণজয়ন্তিতে আমরা পেয়েছি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা। যে দেশটিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধের পর মাত্র তিন বছর সাত মাসে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রূপান্তরিত করেছিল। যেখানে একটা টাকা রিজার্ভ ছিল না। এরপর ২১ বছরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ২০২৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যাত্রা শুরু হবে।

‘২০২১-২০৪১ পরিপ্রেক্ষিত আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০৪১ এ বাংলাদেশ এখন কেমন হবে। সরকার হবে স্মার্ট সরকার, অর্থনীত হবে স্মার্ট অর্থনীতি। এজন্য আমরা স্মার্ট দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলবো। সোসাইটি হবে স্মার্ট। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া আমাদের লক্ষ্য, আমরা এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

গ্রামের মানুষকেও অবহেলা করা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আট লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে বিনা পয়সায় দুই কাঠা জমিতে আমরা ঘর তৈরি করে দিয়েছি। যাদের নিজের ঘর বাড়ি, ঠিকানা ছিল না। জাতির পিতার জন্মভূমিতে কোনো মানুষ ঘরহীন, ভূমিহীন থাকবে না।

পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে। মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে দুই লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। এতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইট এসকেলেটর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ