সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঝুলে আছে ঢাকা-২০ আসন, অপেক্ষায় বিএনপির চার নেতা

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এখনো ঘোষণা হয়নি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-২০ (ধামরাই)। ফলে এই আসনে কে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর প্রবেশদ্বার খ্যাত ধামরাই আসনটি বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নাম ঘোষণা না হওয়ায় কেউ কেউ মনে করছেন, এই আসনটি হয়তো মিত্র দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত রাখা হতে পারে। যদিও এখনো মনোনয়নের আশায় রয়েছেন চার সম্ভাব্য প্রার্থী—ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দিনভর বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও ঢাকা-২০সহ ৭টি আসন এখনো ঝুলে রয়েছে।

ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বলেন, “এটা দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। হয়তো কোনো কারণে বাদ পড়েছে। সিদ্ধান্ত হবেই, আমরা আশাবাদী। মাঠ তমিজ উদ্দিনের পক্ষে। আমরা মূল দলের অংশ, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও মনোনয়নপ্রত্যাশী সুলতানা আহমেদ বর্তমানে ওমরাহ পালন করছেন। তিনি বলেন, “সিদ্ধান্তটি হয়তো আরও গভীরভাবে যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে। আমি মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী।”

তরুণ দুই নেতা ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ও নাজমুল হাসান অভিও আশাবাদী। মুরাদ বলেন, “দলের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা রয়েছে। আমি দলের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাজনীতি করে আসছি।”
অন্যদিকে অভি বলেন, “দল তারুণ্যের পক্ষে। আমি বিশ্বাস করি, দল আমাকে সুযোগ দেবে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে।”

এদিকে বিএনপির চার মনোনয়নপ্রত্যাশীর প্রতিযোগিতা চললেও অন্যান্য দল ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আব্দুর রউফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আসাদুল ইসলাম মুকুল, গণঅধিকার পরিষদের রুবেল এবং এবি পার্টির লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, প্রথম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ধামরাই ছিল ঢাকা-১৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের তাজউদ্দীন আহমদ, ১৯৭৯ সালে বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ ইদ্রিস, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির খান মোহাম্মদ ইসরাফিল বিজয়ী হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার জয় পান বিএনপির ব্যারিস্টার মো. জিয়াউর রহমান খান।

২০০৮ সালের আসন পুনর্বিন্যাসে ধামরাই হয় ঢাকা-২০। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেনজির আহমদ বিজয়ী হন। এরপর ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে টানা জয় ধরে রেখেছেন তিনিই।

রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন—বিএনপি এবার কাকে মাঠে নামাবে ধামরাইয়ের ‘ধানের শীষ’-এর কান্ডারী হিসেবে?
সময়ই বলবে, কে পাচ্ছেন দলের চূড়ান্ত আস্থা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ