বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারল্য সংকটে ৫ ব্যাংক, বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

অনলাইন ডেস্ক:

সংকটাপন্ন পাঁচটি ব্যাংকের কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়েছেন। এসব ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে থাকায় রপ্তানি আয় (প্রত্যাবসিত রপ্তানি মূল্য) এলেও সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের সেই অর্থ সময়মতো প্রদান করতে পারছে না। এমনকি ব্যাংকগুলো নতুন এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতেও ব্যর্থ হচ্ছে। এতে পোশাক কারখানাগুলো দারুণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ সময় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফাহিমা আক্তার, এবিএম সামছুদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান বৈঠকে বলেন, “তীব্র তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয় এলেও রপ্তানিকারকদের সময়মতো অর্থ প্রদান করছে না। নতুন এলসি খুলতেও পারছে না। ফলে কারখানাগুলো সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না। এতে শ্রমিক অসন্তোষ বাড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও কমছে, যা শিল্পের জন্য মোটেও শুভ নয়।”

বিজিএমইএ নেতারা বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অনেক প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হবে। ফলে বহু শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবেন এবং দেশের প্রধান রপ্তানি খাত আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, “সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে রপ্তানিকারকদের জরুরি আর্থিক চাহিদা পূরণ করা যায়। পাশাপাশি সমস্যার একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ