,

দেশের রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে রেকর্ড অর্জন

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যাত্রা শুরু করেছে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি নিয়ে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশটি। সেই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই অঙ্ক ছিল ২৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনের রেকর্ড।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ নীতিগত পদক্ষেপে প্রবাসীরা এখন বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। আগে যেখানে হুন্ডি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা ছিল, এখন তার জায়গা নিচ্ছে ব্যাংক ও আনুষ্ঠানিক মাধ্যম। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে, যা ডলারের ওপর চাপ কমাতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হয়েছে।

একইসঙ্গে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ও রপ্তানি আয়ের কারণে দেশের রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ২৬.৭১ বিলিয়ন ডলার।

আইএমএফ নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ২১.৬৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ (নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ – NIR) প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের ২৯ জুন শেষে এই রিজার্ভ ছিল ২০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা অর্থবছর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ২০.৫০ বিলিয়ন ডলারে। এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে প্রায় চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত ২৬ জুন আইএমএফ, এডিবি এবং জাইকার ঋণ সহায়তার অর্থ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এর পরিমাণ হঠাৎ বাড়ে। একদিন আগে, ২৫ জুন, সরকারি ক্রয় বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় সন্তোষজনক থাকায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বাজেট সহায়তা আসায় রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে। মন্ত্রণালয়ের মিডিয়াম টার্ম ম্যাক্রোইকোনমিক পলিসি স্টেটমেন্টে বলা হয়েছে, এ সময় রপ্তানিতে ১০ শতাংশ, আমদানিতে ৮ শতাংশ এবং রেমিট্যান্সে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের এই অর্জন অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের এই ইতিবাচক ধারা সরকারের বিনিয়োগ, উন্নয়ন ব্যয় এবং আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ