শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি-রেমিট্যান্সে রেকর্ড আয়

নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:

রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি।

বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি খাতে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যমতে, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। যদিও জুন মাসে কিছুটা ধস দেখা গেছে, তবুও পুরো অর্থবছর শেষে রপ্তানি আয়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৮১ কোটি ডলার বেশি আয় করে এ বছর পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ডলারে, যেখানে আগের বছর এ আয় ছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার।

তবে জুন মাসে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩৪ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় সাড়ে ৭ শতাংশ কম। ২০২৩ সালের জুনে রপ্তানি হয়েছিল ৩৬১ কোটি ডলারের পণ্য। রপ্তানিকারকেরা জানিয়েছেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি এবং মাসের শেষ দিকে এনবিআরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এসব কারণে জুনে রপ্তানিতে এ ধস নেমেছে।

এদিকে, রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার বেশি। শুধু জুন মাসেই এসেছে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে অর্থবছরের শেষ দিনে (৩০ জুন) একদিনেই এসেছে ১১ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার।

এটি দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনের রেকর্ড। পূর্ববর্তী রেকর্ড ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, যেখানে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। এই রেকর্ড অর্জনের পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে টাকা পাঠালে প্রণোদনা এবং প্রক্রিয়া সহজকরণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির যৌথ প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো ডলার লেনদেন করছে গড়ে ১২৩ টাকায়, যা আমদানির ক্ষেত্রেও কার্যকর। ফলে ডলার সংকট অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে। যদিও আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬৮ বিলিয়নে, তারপরও সার্বিক বাস্তবতা ইতিবাচক। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে পাওয়া ঋণ ছাড়ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

ফলে লেনদেন ভারসাম্যেও এসেছে চোখে পড়ার মতো উন্নতি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে যেখানে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৬ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে এসেছে ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। পুরো লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতিও কমে এসেছে ৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন থেকে মাত্র ৬৫ কোটি ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদেশিক বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর আস্থা ফিরেছে। এর ফলে মুদ্রাবাজারে চাপ কমেছে এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ