শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক

এক মাস পেছানোর পর অবশেষে বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রায় ৪১ শতাংশ বর্ধিত ট্যারিফ আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আদায়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বন্দরের সেবা নিতে এখন থেকে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।

এদিকে বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকরের প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে দেশের শিপিং খাতে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক একটি শিপিং কোম্পানি চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে পণ্য আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

তারা বলছেন, এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯টি বেসরকারি ডিপো খালি ও রপ্তানি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ওপর বাড়তি ট্যারিফ আরোপ করে। তখনও ব্যবসায়ীরা আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। একের পর এক সেবাচার্জ বৃদ্ধিতে দিশেহারা ব্যবসায়ীরা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না, কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৪ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা খাতে চার্জ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে ব্যবহারকারীদের আপত্তির মুখে নৌপরিবহন উপদেষ্টা কার্যকর করার সময় এক মাস পিছিয়ে দেন। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চার্জ পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু সেটি না করে বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকেই বর্ধিত ট্যারিফ কার্যকর হবে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, “বন্দরসহ সব ক্ষেত্রে মাশুল ও অন্যান্য খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যবসায়ীদের জন্য চরম সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে বন্দরের বর্ধিত চার্জ কার্যকরের ঘোষণা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির পর এই বন্দর দিয়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বাড়তি চার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সিএমএ-সিজিএম (CMA-CGM)। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২৬ অক্টোবর থেকে নতুন চার্জ কার্যকর হবে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অন্য শিপিং কোম্পানিগুলোও একই পথে হাঁটবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, “বন্দর ও বেসরকারি ডিপো এখন রীতিমতো চার্জ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বন্দর ট্যারিফ বাড়ানোয় শিপিং কোম্পানিগুলোও তাদের চার্জ সমন্বয় করছে। সিএমএ-সিজিএম ইতোমধ্যে তা করেছে। আগের তুলনায় জাহাজ ও কনটেইনার ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানিকারকদের ওপর চাপবে।”

তিনি আরও বলেন, “রপ্তানিকারকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তারা পণ্যের দাম ইচ্ছামতো বাড়াতে পারেন না। অন্যদিকে আমদানিকারকরা বাধ্য হয়ে পণ্যের দাম বাড়ালে এর বোঝা শেষ পর্যন্ত পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর।”

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, “আমরা বারবার বলেছি, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে ট্যারিফ নির্ধারণ করা উচিত ছিল। আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতামত উপেক্ষা করে ট্যারিফ প্রায় ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ