(ফাইল ছবি)
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দুর্বল ব্যাংকগুলোর কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে এবং গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার সংস্কার কার্যক্রমে গতি এনেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
‘এসএমই ফাউন্ডেশন-ইআরএফ মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে কাজ চলছে। গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর বৈষম্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “এখন ব্যাংকিং স্ট্রাকচারে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। অথচ আমরা ৬০-৬২ হাজার কোটি টাকা এনার্জি খাতে ব্যয় করছি। এসএমই খাত সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে না, যা পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। কর ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। “নেগেটিভ রিপোর্টের কারণে আমরা অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ি। এনবিআরের কাজেও অনেক জটিলতা রয়েছে। অর্থ অপচয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এসএমই খাতে অর্থায়নের জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “উদ্যোক্তারা এখনও সহজে ঋণ পান না, অথচ তাদের ঋণ পরিশোধের হার বেশ ভালো। ব্যাংকগুলো এই খাতে আগ্রহী নয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার।”
প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “হাতুড়ি-বাটালের যুগ পেরিয়ে গেছে। উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।”
নারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “নারীরা দক্ষ ও সৃজনশীল—তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন শুধু কথায় নয়, বাস্তব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।”
এসএমই খাতের তথ্য সংরক্ষণে একটি ডিজিটাল ও সমন্বিত ডাটাবেজ গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “হার্ডকপির যুগ শেষ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই হতে হবে ভবিষ্যতের ভিত্তি।”
রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
এবার সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে ২১ জন সাংবাদিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।








