নাসরিন সুলতানা, স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ এবং মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই এ ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্বর্ণের বর্তমান দর
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১ জুলাই) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে ০.৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৩২২.৫৫ ডলারে। অন্যদিকে ফিউচার মার্কেটে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৩৩৪.৮০ ডলারে, যা আগের তুলনায় ০.৮ শতাংশ বেশি।
মূল কারণ: ডলার দুর্বলতা ও ট্রাম্পের শুল্কনীতি
এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক বাজার প্রধান নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, “ডলারের দুর্বলতা এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।”
এদিন ডলার সূচক ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসে। এতে করে অন্যান্য মুদ্রায় স্বর্ণ কিনতে আগ্রহীদের জন্য দাম তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে, যা চাহিদা বাড়িয়েছে আরও।
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ, শুল্ক কার্যকরের হুমকি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যকার বাণিজ্য আলোচনা সোমবার ফলপ্রসূ না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, আলোচনায় সমঝোতা না হলে আগামী ৯ জুলাই থেকে ১০-৫০ শতাংশ হারে শুল্ক কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগে ৯০ দিনের জন্য শুল্ক কার্যকর স্থগিত রেখেছিলেন, যার মেয়াদ শিগগিরই শেষ হচ্ছে।
সুদের হার কমাতে চাপ
মুদ্রানীতি নিয়েও ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার জাপান (০.৫%) ও ডেনমার্কের (১.৭৫%) সমপর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্র্যাপেলের মতে, “সুদের হার কমানো নিয়ে বাজারে বেশ আশাবাদ তৈরি হয়েছে, যা কিছুটা বিস্ময়কর।”
চোখ শ্রমবাজারের তথ্যের দিকে
এদিকে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোর দিকে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে সরকারি বেতন-ভাতা সংক্রান্ত তথ্য, যা ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুগুলোর দামেরও পরিবর্তন দেখা গেছে।
- স্পট সিলভারের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৬.১৬ ডলার।
- প্ল্যাটিনামের দাম স্থির রয়েছে ১,৩৫২.৪৯ ডলারে।
- প্যালাডিয়ামের দাম বেড়ে ১.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে ১,১১৩.১৮ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় সাধারণত স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুগুলোতে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ে, এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।








