পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক
সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর পূর্বাচলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ব্যবসায়ীদের তেলের দাম বাড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই।
উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, “সরকারের অনুমোদন ছাড়া কেউ যদি দাম বাড়ায়, তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ব্যবহার করব। বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে বাণিজ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্যের বিপরীতে, মাত্র একদিন আগেই—১৩ অক্টোবর—বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিওরভিএমএ) ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের দাম ২৩ টাকা বাড়িয়ে ৯৪৫ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষণামতে, নতুন দাম ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঘোষণার পরও আগের দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। কাওরান বাজার, নিউ মার্কেট ও মিরপুরের কয়েকটি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল এখনও ১৮৯ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির কাছ থেকে এখনও নতুন দামে তেল সরবরাহ শুরু হয়নি। ফলে তারা পুরনো দামে বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে ক্রেতারা তেলের দাম বাড়ার খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিউ মার্কেটের এক ক্রেতা বলেন, “প্রায় প্রতিবারই উৎসব বা মৌসুমের আগে দাম বাড়ে। এখন আবার বাড়ালে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়বে।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মূল্যবৃদ্ধির অনুমোদন দেয়নি। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় মজুত পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের ঘোষণার সঙ্গে সরকারের বক্তব্যের বিরোধে ভোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তবে বাজারে এখনো আগের দামে তেল বিক্রি হওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা।








