খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল
ইউরোপে স্বপ্নের জীবনের খোঁজে লিবিয়ার উপকূল বেনগাজী থেকে সাগরপথে গেমিং বোর্ডে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন বরিশালের ৩৮ যুবক। গত এগারো দিন তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছিলেন। অবশেষে জানা গেছে, তারা লিবিয়ার জেলখানায় বন্দি আছেন।
ইতালি প্রবাসী জাকির হোসেন মোল্লা বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দালাল চক্রের এজেন্টদের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই দিন রাতে একই স্থান থেকে আরেকটি গেমিং বোর্ডে থাকা ৩২ বাংলাদেশীকেও আটক করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৩ আগস্ট ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার পর দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা লিবিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত একটার দিকে বেনগাজী উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে গেমিং বোর্ডে রওনা দেন। কিন্তু পথিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেলে বন্দি হন তারা।
প্রত্যেক যুবক স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার জন্য দালাল চক্রকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। এর জন্য কেউ সহায়-সম্পদ বিক্রি করেছেন, কেউ আবার ধারদেনা করেছেন।
আটক যুবকদের পরিচয় পাওয়া গেছে—গৌরনদী উপজেলার বার্থী গ্রামের আমিনুল ইসলাম, রহিম হাওলাদার, অহিদুল হাওলাদার, সুজন খান, সবুজ মোল্লা, বড় দুলালী গ্রামের রাহুল সরদার, শাহ আলী বয়াতী, বাবুল বেপারী, তানভির হোসেন হৃদয়, মাসুদ তালুকদার, রাব্বী সরদার, রিয়াজুল বেপারী, বিপুল সরকার, শাহাদাত সিকদার, রিমন মীর, তৌহিদ হাসান হৃদয়, উত্তর বাউরগাতী গ্রামের ফাহিম প্যাদা, ইব্রাহীম প্যাদা, শামিম সরদার, তাঁরাকুপি গ্রামের মুন্না বয়াতী, উত্তর মাদ্রা গ্রামের শান্ত দত্ত, বাঙ্গিলা গ্রামের সুমন কাজী, খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের কামরুল বেপারী, ছোট ডুমুরিয়ার মেহেদী হোসেন খান, পশ্চিম ডুমুরিয়ার বাবুল মোল্লা, পূর্ব সমরসিংহ গ্রামের আবুবক্কর মোল্লা, উত্তর মাগুরার সাদ্দাম বেপারী, আগৈলঝাড়ার আলী হোসেন বেপারী, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার সজিব বেপারী ও কালকিনির ফারহান হোসেন জয়।
আটক এক যুবকের মা নাজমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বলেছিল, মা তুমি অনেক কষ্ট করেছো, আর কষ্ট হবে না। এখন সে কোথায় আছে, কেমন আছে জানি না। সহায়-সম্পদ বিক্রি করে ধারদেনা করে ছেলেটা স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলো।”








