শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডাকসুতে গেমচেঞ্জার হতে পারে ছাত্রীদের ভোট

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এবার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ছাত্রীদের ভোট। মোট ৩৯,৮৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ১৮,৯৫৯ জনই ছাত্রী। ফলে তাদের ভোটই জয়–পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে সকাল থেকেই বিভিন্ন হলে গিয়ে ইশতেহার প্রচার করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাদের প্রচারণায় ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং সাইবার বুলিং প্রতিরোধের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন প্যানেলের ইশতেহারেও ছাত্রীদের আবাসন সংকট ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের বিষয়টি এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়টি সব প্যানেল থেকেই উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, ছাত্রীরা যাতে সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হন, তা নিয়েও সক্রিয় হয়েছেন সব প্রার্থী।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেন, “নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব।”
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে ‘ওয়ান বেড, ওয়ান স্টুডেন্ট’ নীতি চালু করবেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবাসন সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্য-খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার।

অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা প্রচারণায় বলেন, “মোট ভোটারের ৪৮ শতাংশই ছাত্রী, তাদের অংশগ্রহণই ডাকসুর ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করবে। আমাদের ইশতেহারে কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ছাত্রদল। তাদের প্যানেলের এজিএস প্রার্থী তানভীর আল হাদী নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে তিনটি ফেসবুক গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডাকসু নির্বাচনের আগে টিএসসিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী বিতর্কেও ভিপি প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন এবং ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য বুথের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ