শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীবান্ধব সংস্কারের প্রত্যাশা

পথে প্রান্তরে ডেস্ক 

দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার পর আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ; শিক্ষার্থীদের দাবি, এমন প্রাণবন্ত আমেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে কখনো দেখা যায়নি।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডাকসু জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে রেখেছে অগ্রণী ভূমিকা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে ডাকসু। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল ডাকসু নির্বাচন, যা আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ডাকসু হবে নিরপেক্ষ ও শিক্ষার্থীবান্ধব একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতিনিধিরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করবেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে। ভোটারদের অগ্রাধিকার মেধাবী, স্বচ্ছ ও ন্যায্য নেতৃত্বে। বিশেষ করে যারা শিক্ষা উন্নয়ন, ন্যায্য দাবি আদায় ও শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন, তারাই শিক্ষার্থীদের আস্থার শীর্ষে।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী ইকবাল মাহী বলেন, “সবার উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছে, ডাকসুর মধ্য দিয়ে নতুন রাজনীতির সূচনা হতে যাচ্ছে। এখন প্রত্যাশা একটাই—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ডাকসুর ইশতেহার অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতি নিয়ে করা হচ্ছে, কিন্তু প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও একাডেমিক সংস্কারের দিকে মনোযোগ।”

বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তারের মতে, “আমাদের স্বপ্নের ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত বন্ধু। আবাসনের সংকট নিরসন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য। দখলদার রাজনীতি বা সহিংসতা নয়, আমরা চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব। পাশাপাশি ডাকসু হবে সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার উৎসবমুখর মঞ্চ।”

কবি জসিমউদ্দীন হলের শিক্ষার্থী মুনতাসীর মামুন মনে করেন, “ডাকসুই পারে প্রকৃত প্রতিনিধি দিতে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা শুনবেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করবেন।”

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ বলেন, “ডাকসুর মূল কাজ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হওয়া। কিন্তু বাস্তবে দলীয় প্রভাবই বেশি দেখা যায়।”

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, এবারের নির্বাচন ডাকসুকে অতীতের গৌরব ফিরিয়ে দেবে। নির্বাচিত নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবে এবং গড়ে তুলবে আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ