শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডাকসু নির্বাচনে যে দায়িত্ব পেলো সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্কঃ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোটগণনার সময়ও কেন্দ্রের ভেতরে সেনাসদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সাতটি প্রবেশপথে সেনাসদস্যরা অবস্থান করবেন। ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো কর্ডন করে রাখবে সেনারা, যাতে কেউ বাইরে থেকে প্রবেশ করতে না পারে কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভোটের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ থাকবে। নির্বাচনের সাত দিন আগে থেকেই আবাসিক হলে কোনো বহিরাগত থাকতে পারবে না।

এদিকে আজ থেকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে এবং প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

কমিশনের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রচারের সময় কোনো প্রার্থী যদি মুক্তিযুদ্ধ, পারিবারিক বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে অন্য কাউকে অপমান করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ছাত্রত্বও রদ করা হতে পারে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। আজ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ থাকবে। তবে ছাত্রীদের হলগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।

গতকাল সোমবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন ২১ জন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রদলেরও। তাঁদের দাবি, ঘোষিত প্যানেলে জায়গা না পাওয়ায় এবং দলীয় সিদ্ধান্তের কারণেই তাঁরা সরে দাঁড়িয়েছেন।

এ ছাড়া বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে করা ৩৪টি আপিল যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আপিল ও আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বৈঠক করে। সেখানে জুলিয়াস সিজার তালুকদার ও বায়েজিদ বোস্তামী নামের দুই শিক্ষার্থীকে ভোটার ও প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সোমবার নিষিদ্ধ সংগঠনে সম্পৃক্ততা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় তাঁদের প্রার্থিতা ও ভোটাধিকার বাতিল করা হয়েছে।

তবে জুলিয়াস সিজার প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এক চিঠিতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ন্যায়বিচারের অনুরোধ জানিয়েছেন।

এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, সিটি এসবির ডিআইজি মীর আশরাফ আলী, ডিএমপির রমনা জোনের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম এবং শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়া ও ভোটগণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

আচরণবিধিঃ

এদিকে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছেন। আচরণবিধি অনুযায়ী—

  • প্রার্থীরা শুধু সাদাকালো পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপাতে ও বিতরণ করতে পারবেন। সেখানে প্রার্থীর নিজস্ব সাদাকালো ছবি ছাড়া অন্য কোনো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
  • ক্যাম্পাস ও হল এলাকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে পোস্টার লাগানো যাবে না। দেয়াল বা যানবাহনে কালি, চুন বা রাসায়নিক দিয়ে লিখন বা চিত্রাঙ্কন করা নিষিদ্ধ।
  • ফটক, তোরণ, ঘের নির্মাণ কিংবা ক্যাম্প ও আলোকসজ্জা করা যাবে না। তবে অস্থায়ী প্যান্ডেল, শামিয়ানা ও মঞ্চ স্থাপন করা যাবে।
  • কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়, শ্রেণিকক্ষ, পাঠকক্ষ ও পরীক্ষার হলে প্রচারণা করা যাবে না।
  • ভোটারদের কোনো উপঢৌকন বা বকশিশ দেওয়া যাবে না। আক্রমণাত্মক বক্তব্য, গুজব বা উসকানিমূলক মন্তব্য নিষিদ্ধ।
  • সভা-সমাবেশ বা শোভাযাত্রা করতে হলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। প্রচারণায় বা ভোটের দিন কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় পরিবেশন করা যাবে না।
  • প্রতিটি হলে একটি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনটি প্রজেকশন মিটিং করার সুযোগ থাকবে।
  • অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আইনসিদ্ধ ইতিবাচক পদ্ধতিতে প্রচার চালানো যাবে। তবে ভোটার ছাড়া অন্য কেউ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা আইনি দণ্ডের বিধান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ