বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর দিলো অস্ট্রেলিয়া

পথে প্রান্তরে ডেস্ক 

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স) স্টুডেন্ট ভিসা এভিডেন্সিয়ারি ফ্রেমওয়ার্কে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো লেভেল-১ এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভিসা ফলাফলের ভিত্তিতে এভিডেন্স লেভেল হালনাগাদ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

প্রথমবার লেভেল-১ এ বাংলাদেশ

এই প্রথম বাংলাদেশ লেভেল-১ মর্যাদা পেল। এর ফলে উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির শর্তগুলোও তুলনামূলকভাবে শিথিল হবে। ঘোষণার পরপরই দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি এজেন্সি ও কনসালটেন্সিকে আপডেট জানিয়েছে।

২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সরকারের এসেসমেন্ট লেভেলের তৃতীয় ধাপে (লেভেল-৩) অবস্থান করছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। এবার লেভেল-১ এ উন্নীত হওয়ায় তুলনামূলক কম খরচে, দ্রুত এবং সহজ কয়েকটি ধাপেই ভিসার আবেদন করা সম্ভব হবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

  • উচ্চ ঝুঁকির দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আগে ছিল কঠোর কাগজপত্র জমা দেওয়ার শর্ত। এতে ভিসা জালিয়াতি, অতিরিক্ত থাকা বা অনিয়ম কমানোই ছিল লক্ষ্য।
  • নিম্ন ঝুঁকির দেশ থেকে আবেদনকারীরা তুলনামূলকভাবে সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।
  • এ ব্যবস্থা মূলত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের জন্য, যাতে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা সুযোগ পান এবং সিস্টেমের সততা বজায় থাকে।
  • প্রতিটি দেশের ছাত্র ভিসার ইতিহাস, ভিসা বাতিলের হার, ভিসা অতিক্রম করে অবস্থান, মিথ্যা বা জাল নথি জমা দেওয়ার ঘটনা ইত্যাদি তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি লেভেল নির্ধারণ করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

লেভেল অনুযায়ী দেশগুলোর অবস্থান

  • লেভেল-১: বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা।
  • লেভেল-২: ভারত, ভুটান, ভিয়েতনাম, চীন, নেপাল।
  • লেভেল-৩: ফিজি, ফিলিপাইন, পাকিস্তান।

সবশেষ ধাপ অর্থাৎ লেভেল-৩ এ ভিসা প্রক্রিয়া হয় কঠোর, সময়সাপেক্ষ এবং বাতিল হওয়ার ঝুঁকি বেশি। লেভেল-২ এ তুলনামূলক ঝুঁকি কম হলেও শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নথি যেমন ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হতে পারে। আর লেভেল-১ এ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি হয় দ্রুত, সহজ এবং কাগজপত্রের চাহিদাও সীমিত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ