পথে প্রান্তরে ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-র সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম। ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদিক কায়েম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কারো পোশাকের পছন্দ, ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রতীক নিয়ে হেয় করা, হস্তক্ষেপ করা কিংবা কোনো সিম্বলকে অপরাধী করা—এসব একেবারেই চলবে না। এখানে হিজাব পরা শিক্ষার্থীর যেমন অধিকার আছে, তেমনি নন-হিজাব বা আধুনিক পোশাক পরা শিক্ষার্থীরও সমান অধিকার আছে।”
ডাকসু নির্বাচনে নারী শিক্ষার্থীদের ভোট বেশি পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে সাদিক কায়েম বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রপাগান্ডা চালানো হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে। জুলাই বিপ্লবের পর থেকে আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, এই প্রতিশ্রুতি শুধু মুখের কথা নয়। নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা পর্যন্ত আমরা থামব না—এটাই আমাদের স্লোগান।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইশতেহারে নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং শিগগিরই এসব বাস্তবায়ন শুরু হবে।”
নারীরা যেমন নেতৃত্ব চান, তেমন নেতৃত্ব তারা ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের’ মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, “নারীর অধিকার, তাদের সুরক্ষা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি বিগত সময়ে দেওয়া হলেও তা গণমাধ্যমে যথাযথভাবে প্রকাশ পায়নি।”
শিবিরের বিজয়ে স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি মাল্টিকালচারাল প্রতিষ্ঠান। এখানে স্বাধীনতা সীমিত করার কোনো সুযোগ নেই। হিজাব পরা শিক্ষার্থীর যেমন অধিকার আছে, তেমনি নন-হিজাব বা আধুনিক পোশাক পরা শিক্ষার্থীরও সমান অধিকার আছে। পোশাকের পছন্দ, ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রতীক নিয়ে কাউকে হেয় করা, হস্তক্ষেপ করা কিংবা কোনো সিম্বলকে অপরাধী করা একেবারেই চলবে না। যার যে অধিকার, যে চয়েস, যে রুচি—সে তাই করবে এবং তার স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।”








