ব্যুরো চীফ, বরিশাল
বিভিন্ন কারণে বরিশাল বিভাগে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি অনাবাদি থাকায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রকৃত কৃষকদের জমি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা বিদ্যমান।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে অনাবাদি পতিত জমির পরিমাণ ৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ হেক্টর। এর মধ্যে খরিপ-১ মৌসুমে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮৯১ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ৫২ হাজার ১৭৯ হেক্টর এবং রবি মৌসুমে ৫০ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে।
জেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- বরিশাল জেলা: অনাবাদি জমি ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৩ হেক্টর। খরিপ-১ মৌসুমে ৯৭ হাজার ১৪৬ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ২৮ হাজার ৮৩৭ হেক্টর ও রবি মৌসুমে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর।
- ঝালকাঠি: মোট ৫১ হাজার ৬৪৯ হেক্টর জমি অনাবাদি। এর মধ্যে খরিপ-১ মৌসুমে ৩৪ হাজার ৯৪১ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ২ হাজার ৩৯৮ হেক্টর এবং রবি মৌসুমে ১৪ হাজার ৩১০ হেক্টর।
- পিরোজপুর: অনাবাদি জমি ৮৪ হাজার ৮৫৫ হেক্টর। খরিপ-১ মৌসুমে ৬১ হাজার ৬৭৬ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ১০ হাজার ৫৮৩ হেক্টর ও রবি মৌসুমে ১২ হাজার ৫৯৬ হেক্টর।
- পটুয়াখালী: মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৪ হেক্টর জমি অনাবাদি। এর মধ্যে খরিপ-১ মৌসুমে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ৬৩১ হেক্টর এবং রবি মৌসুমে ৯ হাজার ৮০৩ হেক্টর।
- বরগুনা: অনাবাদি জমি ৮০ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। খরিপ-১ মৌসুমে ৬৪ হাজার ৯৯৮ হেক্টর, খরিপ-২ মৌসুমে ৫ হাজার ২৩০ হেক্টর এবং রবি মৌসুমে ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টর।
- ভোলা: অনাবাদি জমি ১ লাখ ২১ হাজার ৮৮০ হেক্টর। এর মধ্যে খরিপ-১ মৌসুমে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং খরিপ-২ মৌসুমে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। রবি মৌসুমে অনাবাদি জমি নেই।

বরিশালের কৃষক বন্ধু ও অবসরপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অনেক কৃষকের নিজস্ব জমি নেই। তারা জমি বর্গা এনে চাষাবাদ করেন। জমির মালিকের সঙ্গে ফসলের ভাগ নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এছাড়া শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও চাষাবাদের ব্যয় না ওঠায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পেশা পরিবর্তনের কারণেও অনেকে জমি চাষ করেন না।”
কৃষি তথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক বলেন, “আগে বরিশাল অঞ্চলে প্রচুর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষি অফিসের বিভিন্ন পরামর্শ ও উদ্যোগে বর্তমানে জমি অনাবাদির হার কমেছে। এখন যে জমি অনাবাদি রয়েছে তার সিংহভাগ প্রাকৃতিক কারণে। এর মধ্যে রয়েছে নিচু জমিতে পানি জমে থাকা, দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন না হওয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ থাকা, নদীভাঙন এবং ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ জন্মানো। ধাপে ধাপে এ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।”








