আফসার রেজা, পথে প্রান্তরে
গভীর রাত, আনুমানিক দুটো বেজে পনেরো। শহর থেকে বহু দূরে, জনমানবহীন এক পরিত্যক্ত কেল্লার ধ্বংসাবশেষে দাঁড়িয়ে আছে রঞ্জন। সে একজন অকুতোভয় অ্যাডভেঞ্চারার, যে ভূতের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে একাই এখানে এসেছে। চারদিকে দেয়ালগুলো যেন সময়ের ভারে নুয়ে পড়েছে, আর চাপা অন্ধকারে প্রতিটি ইটের খাঁজে লুকিয়ে আছে অজানা আতঙ্ক।
রঞ্জন তার হাতে ধরা টর্চটি ঘোরাতেই দেখল—একটি হলঘরে বিশাল ছায়া যেন নড়ে উঠল। বাতাস ভারী হয়ে গেল পচা মাংসের বীভৎস গন্ধে। রঞ্জনের বুক কাঁপলেও সে সাহস হারাল না। সে দেখল, ছায়াটা স্পষ্ট হচ্ছে।
ধীরে ধীরে ছায়া থেকে বেরিয়ে এলো এক ভয়ংকর মূর্তি। চোখগুলো টকটকে লাল, কোটরের ভেতরে জ্বলছে যেন আগুনের কণা। লম্বা ধারালো নখ, আর মুখ ভর্তি সূঁচালো দাঁত। এই কেল্লার কিংবদন্তী সেই পিশাচ—যা শত শত বছর ধরে পথ হারানো পথিকদের রক্ত পান করে আসছে।
পিশাচটি হিসহিস করে উঠল, “কে তুই? সাহস করে আমার এলাকায় এসেছিস? তোর রক্ত আজ আমার রাতের খাবার হবে!”
রঞ্জন এক মুহূর্তের জন্য জমে গেল, কিন্তু পরক্ষণেই টর্চটা পিশাচের চোখে মেরে দিল। পিশাচটি তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। রঞ্জন এবার দ্রুত পালাতে শুরু করল। কিন্তু পিশাচের গতি তার চেয়ে অনেক বেশি। এক লাফে সেটা রঞ্জনের সামনে এসে পথ আটকালো।
পিশাচের বীভৎস, ঠান্ডা নিঃশ্বাস রঞ্জনের মুখে পড়ল। সে দেখল, পিশাচের ধারালো নখগুলো তার দিকে এগিয়ে আসছে—মৃত্যু যেন এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে! রঞ্জন চোখ বন্ধ করে শেষবারের মতো ঈশ্বরের নাম স্মরণ করল।
পিশাচের মুখে এক পৈশাচিক হাসি, “তোর দুর্বল, ভীতু আত্মাকে আমি টেনে বের করব, আর তোর রক্ত পান করব… হা হা হা!” পিশাচটি মুখ হাঁ করল রঞ্জনের ঘাড় মটকাতে।
ঠিক সেই মুহূর্তে…
পিশাচের মুখে সেই হাসিটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। তার লাল চোখ দুটো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গোল হয়ে গেল। সে করুণ, প্রায় মিনমিনে গলায় বলে উঠল:
“দাঁড়া! দাঁড়া! দাঁড়াও, প্লিজ দাঁড়াও!”
রঞ্জন অবাক হয়ে চোখ খুলল। পিশাচটি তখনও হাঁ করে আছে, কিন্তু তার সূঁচালো দাঁতগুলো তখন একদৃষ্টে রঞ্জনের কাঁধের দিকে তাকিয়ে। রঞ্জন লক্ষ্য করল—সে যখন পালাচ্ছিল, তখন কখন যেন তার ব্যাগের চেইন খুলে গেছে, আর ভেতর থেকে একটি সদ্য ভাজা গরম গরম চিকেন লেগ-পিস বেরিয়ে এসে কাঁধের কাছে আটকে আছে!
পিশাচটি আর দেরি করল না। সে এক ঝটকায় চিকেন পিসটা রঞ্জনের কাঁধ থেকে ছোঁ মেরে নিল। এরপর রঞ্জনকে পুরো উপেক্ষা করে সে বসে পড়ল মেঝেতে। দাঁত দিয়ে চিকেন চিবোতে চিবোতে স্বর্গীয় হাসি হেসে সে রঞ্জনকে বলল:
“ওহ! কী অসাধারণ স্বাদ! কেল্লায় এই প্রথম এত ভালো রান্না পেলাম! অনেক ধন্যবাদ ভাই! তুমি এবার যেতে পারো। আজ রাতে আর মানুষের রক্তে আমার রুচি নেই! আর শোনো, পরের বার এলে, দয়া করে একটা অতিরিক্ত বার্গার নিয়ে এসো!”








