বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খুলনায় বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে মাছ ছেড়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ

খুলনা ব্যুরো 

খুলনায় বিধ্বস্ত সড়ক সংস্কারের দাবিতে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে মাছ ছেড়ে প্রতীকী প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীসহ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিরাপদ সড়ক চাই ও খুলনা নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে নগরীর জিরো পয়েন্ট মোড়ের বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা আঞ্চলিক কেন্দ্রের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. সামিউল হক।

নিসচার সভাপতি মো. নাসরি উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্নার সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। এছাড়া বক্তৃতা করেন সাসটিভা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, পরিচালক প্রশাসন এস. এম. সাইদুল ইসলাম, এনসিপি খুলনার প্রধান সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত, আমরা বৃহত্তর খুলনাবাসীর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হরিণটানা থানার সভাপতি মো. মনজুরুল ইসলাম, লবণচরা থানার সভাপতি মাওলানা নাসিম উদ্দিন, হরিণটানা থানার সহ-সভাপতি বিডিআর (অব:) মো. আল আমিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রধান ট্রাফিক কন্ট্রোলিং সমন্বয়ক মো. নাঈম মল্লিক, বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা তাসনিম আলম সুজন, নিসচার খুলনা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম হোসেন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম সাগর, দপ্তর সম্পাদক তানিয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবীর, মো. শাহ নেওয়াজ, খালিদ হোসেন, রোদেলা আক্তার রেশমী, সজিবুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, নিসচার ডুমুরিয়া শাখার সভাপতি খান মহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো, দুর্ঘটনা সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, কার্যকরী সদস্য শাহরুজ্জামান সবুজ, এম. এ. জলিল, আব্দুর রহমান বেপারীসহ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ ভয়ংকর ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলাচল করছেন। মাত্র ৫ বছর আগে ১৫০ কোটি টাকায় নির্মিত এই মহাসড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহের এন্টারপ্রাইজ ২০২০ সালের জুনে সড়ক নির্মাণ প্রকল্প শেষ করেছে।

মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কের কোথাও ভাঙা রাস্তা, কোথাও বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ, আবার কোথাও কাদামুক্ত জলাশয় রয়েছে। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, যানবাহন উল্টে যাচ্ছে এবং প্রাণহানি ঘটছে। অথচ সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই।

বক্তারা সড়ক বিভাগের উদাসীনতা ও ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তারা সতর্ক করেন, সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষ এখনই পদক্ষেপ না নিলে, নাগরিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ