পাবনা প্রতিনিধি:
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পাবনায় এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন সমাজকর্মী দেওয়ান মাহাবুব। শহরের সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশুরা দীর্ঘদিন পর পেটপুরে ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খেয়ে খুশি। পৌর এলাকার কালাচাঁদ পাড়া মহল্লায় নিজের বাড়ির আঙিনায় ‘গরিবের ইলিশ উৎসব’ নামে এই আয়োজন করেন তিনি।
উচ্চমূল্যের এই মাছ দিয়ে শতাধিক অসহায় মানুষকে দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়। আয়োজনটি ছিল একান্তভাবে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র, বিধবা, স্বামী-সংসারহীন ও পথশিশুদের জন্য। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তহুরা আজিজ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এই ইলিশ ভোজের আয়োজন হয়। সংগঠনের সদস্যদের ব্যক্তিগত দানে কেনা হয় ২৫ কেজি চাল, ১৫ কেজি ইলিশ, ১০ কেজি খাসির মাংস এবং ৫ কেজি মিষ্টি।
আয়োজকরা নিজেরাই খড়ির চুলায় রান্না করে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। খাবারে ছিল আলু ও পটল দিয়ে রান্না করা ইলিশ, খাসির মাংস ও শেষে মিষ্টান্ন। অতিথিদের বসতে দেওয়া হয় চেয়ার-টেবিলে, যাতে সম্মানহানি না হয়।
খাবার খেতে আসা অনেকে বলেন, বছরের পর বছর ইলিশ মুখে ওঠেনি। কেউ কেউ বলেন, আগে ইলিশ মাছ এতটাই সহজলভ্য ছিল যে শাক বেচে হালি ইলিশ কেনা যেত। এখন সেই মাছ হয়ে উঠেছে ধনীদের বিলাসিতা। এতো দাম যে, বর্তমান বাজারে কত তা জানা পর্যন্ত নেই অনেকের।
সংগঠনের উপদেষ্টা সাংবাদিক এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, “এমন আয়োজন পাবনায় আগে কখনো হয়নি। ইলিশ মাছ এখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। সরকারের উচিত সিন্ডিকেট ভাঙা এবং ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা।” তিনি আরো বলেন, “জাতীয় মাছ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, অথচ দেশের গরিব মানুষ একবেলা খেয়ে দেখতে পারছে না—এটা অনুচিত।”
তহুরা আজিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান মাহাবুব বলেন, “রমজানে সেহেরি বিতরণ, কোরবানির সময় মাংস বিতরণ, পশুপালনের সহায়তা, ওষুধ ও চিকিৎসা সহায়তা—সবই আমরা অসহায় মানুষের জন্য করে থাকি। এবার ইলিশ খাওয়ার মতো আনন্দ তাদের জন্য এনে দিতে পেরে আমরা কৃতজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় মাছ সবার নাগালে থাকা উচিত। কিন্তু বর্তমানে তা শুধু অভিজাতদের খাবারে পরিণত হয়েছে। তাই এই আয়োজন ছিল প্রতিবাদস্বরূপ—এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার যে, ইলিশ কেবল ধনীদের জন্য নয়, গরিবের মুখেও যেন ওঠে এই সোনালি মাছ।”
এ আয়োজন প্রমাণ করেছে—ইচ্ছা আর উদ্যোগ থাকলে গরিবের মুখেও হাসি ফোটানো সম্ভব। সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন সামান্য সহযোগিতায়ও সমাজের দুর্বল শ্রেণিকে সামান্য আনন্দ উপহার দেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।








