সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফ্যানে ঝুলছিল স্বামীর লাশ, স্ত্রী-মেয়ের মরদেহ পড়ে ছিল বিছানায়

সাভার প্রতিনিধি 

একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বসতঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ এক দম্পতি ও তাঁদের শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন।

মারা যাওয়া তিনজন হলেন রুবেল আহমেদ (৩৫), তাঁর স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (৩০) এবং তাঁদের মেয়ে জামিলা আক্তার (৫)। তাঁরা বগুড়ার ধুনট উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় আবুল হোসেন দেওয়ানের বাসায় ভাড়া থাকতেন এই পরিবারটি। রুবেল ছিলেন রাজমিস্ত্রি এবং সোনিয়া স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিবেশীরা কাজ শেষে বাড়ি ফিরে রুবেলদের কক্ষের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা খুলে তাঁরা দেখতে পান, রুবেল ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খাটের ওপর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পড়ে ছিল। বিষয়টি প্রথমে স্থানীয়দের জানানো হয়, পরে খবর দেওয়া হয় আশুলিয়া থানা-পুলিশকে। রাত আটটার দিকে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

রুবেলের প্রতিবেশী মো. সোহাগ বলেন, ‘আমি অফিস থেকে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে রুবেলদের কক্ষের সামনে যাই। জানালা দিয়ে দেখি রুবেল ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। শিশুটির নাক দিয়ে কিছু বের হচ্ছিল। ওই নারীর নাক দিয়েও রক্ত বের হচ্ছিল। শুনেছি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা চলছিল।’

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে রুবেলকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। খাটের ওপর স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সিআইডির টিম ঘটনাস্থলে এসেছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ