ব্যুরো চীফ, বরিশাল
জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনটি মামলার আসামি হয়ে পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিজ জেলা ছেড়ে পাশ্ববর্তী জেলার শশুড় বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন মৌসুমী কেকার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন-মৃত শারমিন মৌসুমী কেকার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি (কেকা) ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
মৃতের ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শারমিন মৌসুমী কেকার বিরুদ্ধে ঝালকাঠিতে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওইসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আওয়ামী লীগ নেত্রী কেকা বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের শ্বশুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে নয়টার দিকে কেকার মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও ধারনা করা হচ্ছে তিনি (কেকা) ওইদিন বিকেলে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া মৃতের শরীরের বিভিন্নস্থানে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। এ মৃত্যুকে রহস্যজনক দাবি করে নগরীজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত কেকা বরিশাল নগরীর সদর রোড এলাকার বাসিন্দা হিরন আহমেদ লিটুর স্ত্রী। তিনি (কেকা) সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল মাজেদ বলেন, সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে একটি রুমের ভেতরে মরদেহটি পরে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন-আমরা সংবাদ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে নিহতের শরীরের কয়েকটি স্থানে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, কেকাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন-পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন-এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








