ব্যুরো চিফ, বরিশাল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ তিন দফা দাবি পূরণে উপাচার্যের লিখিত আশ্বাসে আমরণ অনশন ভেঙেছেন আন্দোলনরত সাতজন শিক্ষার্থী।
টানা আন্দোলনের ৩৮তম দিন শুক্রবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে উপাচার্য নিজ হাতে জুস পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। এর আগে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি আদায়ের বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দেন ববির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম।
সূত্রমতে, ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর নিচতলায় আমরণ অনশনে বসেন সাতজন শিক্ষার্থী। অনশন শুরুর কিছুক্ষণ পরে উপাচার্য কর্মসূচিস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় উপাচার্য নিজেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে শুয়ে রাত কাটান।
লিখিত আশ্বাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ববি উপাচার্য বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুটে বাসের সিট সংকট চিহ্নিত করে উক্ত রুটে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার উদ্দেশ্যে আগামী রবিবার আবেদনপত্র দাখিল করা হবে। ববির আয়তন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জমির পুনঃমূল্যায়ন (রিঅ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন করা হবে।
অনশন ভাঙানোর সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দাবি পূরণ করতে না পারলে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করব।” এ সময় শিক্ষার্থীদের তার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনশনরত শিক্ষার্থী শওকত ওসমান স্বাক্ষর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাদের দাবিগুলো পূরণের লিখিত আশ্বাস দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আবারও মাঠে নামতে বাধ্য হব।”








