বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোতোয়ালি মডেল থানায় ছাত্র-জনতার অবস্থান ধর্মঘট

ব্যুরো চিফ, বরিশাল:

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হোসাইন আল সুহানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং নারী আন্দোলনকারীদের পুরুষ পুলিশ সদস্যদের দ্বারা চুল ধরে টেনে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করেন।

এ সময় থানা প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে ও বাইরে উভয় দিকেই আন্দোলনকারীরা আটকে পড়েন। খবর পেয়ে নিউজ কভারেজের জন্য সাংবাদিকরা থানায় পৌঁছালে তাদেরকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

থানার ভেতরে থাকা স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দীন রনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুহানের গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, তাকে ডেভিলি থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে কে মামলা করেছেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তারা।

সর্বশেষ রাত সাড়ে সাতটার সময় পর্যন্ত মহিউদ্দীন রনিসহ আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা থানার ভেতরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছিলেন। থানার বাইরে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা অপেক্ষমাণ ছিলেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয় এবং গেট আটকে রাখে পুলিশ।

এ বিষয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেননি। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।


কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের দেড় শতাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নাজমুল হুদা ও সৌমিক আহমেদ।

তারা জানান, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সাত দফা দাবি জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনের নামে সম্প্রতি হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের ওপর হামলা এবং হাসপাতাল ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর রবিবার বিকেল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতিতে যান এবং ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক নাজমুল হুদা বলেন, “মঙ্গলবার দুপুরে আমরা জেনেছি পুলিশ ইতোমধ্যে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রোগীদের কথা ভেবে বিকেল থেকে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি এবং স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা শুরু করেছি।”

অপরদিকে হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. মাজহারুল রেজওয়ান রেজা জানান, চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের এখনও ২৪ ঘণ্টা বাকি আছে।

তিনি বলেন, “সরকারসহ হাসপাতাল ও পুলিশ প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়ে কাজ করছে। শুনেছি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে কর্মবিরতির প্রশ্নই আসবে না। আমরা সবসময় রোগীদের সেবা দিতে চাই। আপাতত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মসূচি স্থগিত করেছেন, আর আমাদের সিদ্ধান্ত আগামী ২৪ ঘণ্টা পরে জানানো হবে।”

বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে সেবা কার্যক্রম সচল রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ