ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর বরিশাল ও ঢাকায় নৃশংস হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি কবাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার এখনও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে মামলার বাদী ও তৎকালীন আহত ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে তিনি বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭ জুলাই বিকেলে বরিশালের নথুল্লাবাদ জিয়া সড়ক ব্রিজের ঢালে হামলার নেতৃত্ব দেন জহিরুল হক তালুকদার। ওই ঘটনায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা আহত হন। পরে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ভুক্তভোগী সুলতান খান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (নম্বর-৬৬/২৮-০১-২০২৫) দায়ের করেন।
সূত্র জানায়, ওই হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগ নেতারা জহিরুলকে ঢাকার মিরপুর এলাকায় পাঠান। সেখানেও ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১২ মে ভুক্তভোগী মো. নাজমুল সালাম মিরপুর থানায় মামলা (নম্বর-২৯/১২-৫-২০২৫) দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ও ছাত্র প্রতিনিধিদের অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি হয়েও জহিরুল হক তালুকদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রেপ্তার এড়াচ্ছেন। বরং তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। মামলার বাদীরা অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করায় এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে তারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি জমি দখল, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অবৈধ অর্থে তিনি গরুর খামার গড়ে তোলেন, যেখানে সরকারি ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জহিরুল হক তালুকদার বলেন, “স্থানীয় একটি মহল আমাকে দুই মামলায় আসামি করেছে। তারা এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।”
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জহিরুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে যেসব থানায় মামলা আছে, সেসব থানা থেকে লিখিত চিঠি এলে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করবো।”








