ব্যুরো চীফ, বরিশাল
“মোরা আর জীবন বাঁচাইতে পলাইয়া রামশীল যাইতে চাই না। মোরা মোগো বাড়ি-ঘরে থাকার নিরাপত্তা চাই। আগে যারা মোগো উপরে জুলুম, অত্যাচার ও নির্যাতন করছে—যাগো ভয়ে মোরা জীবন বাঁচাইতে পলাইয়া রামশীল যাইয়া আশ্রয় নিছি—হেরাই এখন আবার দেখি ভোট চাইতে মাঠে নামছে। যে কারণে আবার মোগো হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াইতেছে।”
আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু অধুষ্যিত আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা প্রমিলা মধু। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে প্রায় একইভাবে বলেছেন শিখা রাণীসহ অন্যান্যরা। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ‘ক্লিন ইমেজের নেতা’ ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালীন অনুষ্ঠিত সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।
আগৈলঝাড়া উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালীন অনুষ্ঠিত সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা নবীন সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন—
রবীন্দ্রনাথ গাইন, দিলীপ ঘটক, বিধান সরকার, হরিপদ বাড়ৈ, হাসি মধু, শিখা রাণী, প্রমিলা মধুসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, বিএনপির ঘোষিত খসড়া তালিকায় যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় জিয়াউর রহমানের পরিবার ও দলকে নিয়ে চরম বিষোদ্গার করেছেন। এছাড়াও তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময় এ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে এ আসনের অসংখ্য সংখ্যালঘু নারী-পুরুষকে জীবন রক্ষা করতে রামশীলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তাকে পুনরায় এ আসনে মনোনয়ন দেওয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পাশাপাশি বিগত পতিত সরকারের সময়ে তাকে রাজপথের কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে পাওয়া যায়নি বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা নিশ্চিন্তে বাড়ি-ঘরে থাকার জন্য বরিশাল-১ আসনে দেওয়া মনোনয়ন পরিবর্তন করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আয়োজনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ডা. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান দীর্ঘদিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন, অসংখ্য মামলায় কারাভোগ করেছেন। এছাড়াও কারাভোগকারী দলীয় নেতাকর্মীদের নিজ অর্থে জামিনে মুক্ত করেছেন। দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে এবং এ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকায় ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে আস্থা অর্জন করেছেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। কর্মসূচিতে বরিশাল-১ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।








