বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তিনশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী সরকার মঠ হুমকির মুখে

ব্যুরো চিফ, বরিশাল:

ইতালির পিসার হেলানো টাওয়ারের মতো দেখতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন মাহিলাড়ার সরকার মঠ। প্রায় তিনশ’ বছরের পুরনো এ স্থাপনাটি স্থানীয়ভাবে ‘সরকার মঠ’ নামে পরিচিত হলেও এটি মূলত শিখর মন্দির স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

দূর থেকে সোজা মনে হলেও কাছে গেলে দেখা যায়, মঠটি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হেলে রয়েছে। শিলালিপি না থাকলেও ইতিহাস থেকে জানা যায়, নবাব আলীবর্দি খানের (১৭৪০–১৭৫৬) শাসনামলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি রূপ রাম দাশগুপ্ত এ মঠ নির্মাণ করান। মঠ নির্মাণের পর থেকে এখানে পূজা-অর্চনা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মঠের পাশে একটি আশ্রম ও মন্দির রয়েছে।

স্থানীয় প্রবাদে বলা হয়, প্রতিষ্ঠাতার মায়ের সমাধি মঠের ভেতরে থাকায় এবং তিনি দম্ভের সঙ্গে বলেছিলেন, “মা, তোমার দুধের ঋণ শোধ করে দিলাম”, এরপর থেকেই মঠটি হেলে যায়। তবে অন্যরা মনে করেন, মঠসংলগ্ন বিশাল দিঘীর কারণে মাটি ধসে মঠটি হেলে পড়েছে।

ভূমি থেকে মঠটির উচ্চতা প্রায় ২৭.৪০ মিটার। অষ্টভুজাকৃতির এ মঠের নিচের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ১.৯১ মিটার, যা ৬.২ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সমান থাকে, এরপর ক্রমে সরু হয়ে শিখরে পৌঁছেছে। সরু অংশে অসংখ্য ধনুকাকৃতির কার্নিশের অলঙ্করণ শোভিত। ভেতরে রয়েছে বর্গাকৃতির ছোট একটি কক্ষ, যার একমাত্র প্রবেশপথ পশ্চিম দেয়ালে। কক্ষের ভেতরে দুই পাশে আড়াআড়িভাবে আট ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশ রয়েছে, যা ধারণা করা হয় নির্মাণকাল থেকেই রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে মঠটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং দিঘীর দক্ষিণ পাড়ে পাইলিং না থাকায় প্রাচীন এ নিদর্শনটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার দাস বীর প্রতীক জানান, প্রায় ১০ বছর আগে মঠটি সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে পলেস্তরা খসে পড়ছে এবং দিঘীর পাড়ে পাইলিং না থাকায় মঠটি বিপদের সম্মুখীন। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন।

সরকার মঠের সামনে দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার দাস জানান, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা মঠ দেখে মুগ্ধ হলেও এখানে উন্নত ওয়াশরুম, রেস্টরুম বা বসার জায়গা না থাকায় তারা হতাশ হন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক রিফাত আরা মৌরি বলেন, তিনি এখনো উপজেলার সব পুরাকীর্তি ঘুরে দেখেননি। শিগগিরই পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ