,

দৈনিক পথে প্রান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর টাকা ফেরত পেতে যাচ্ছে সেই গ্রাহকরা

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

“গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ডাচ বাংলা ব্যাংক এজেন্ট কর্মকর্তা” শিরোনামে দৈনিক পথে প্রান্তরে পত্রিকার অনলাইনে ৩১ জুলাই সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার।

ঘটনাটি বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাকাশুরা বাজারের। এ প্রতিনিধিকে চরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কাকাশুরা বাজারের আউটলেট শাখার এজেন্ট কর্মকর্তা মো. নাইম হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

নাইম হোসেন বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগের সাথে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কোন সম্পৃক্ততা নেই। আসলে যারা অভিযোগ করেছেন তারা হচ্ছেন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতির গ্রাহক। যার (মাল্টিপারপাস) মালিক আমি।

তিনি আরও বলেন, আমার মালিকাধীন মাল্টিপারপাসের দুই কর্মী কয়েকজন গ্রাহকের সাথে প্রতারনা করে টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে। সেই বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে এলাকার কতিপয় ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করে পুরো বিষয়টি আমার কর্মস্থল ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ওপর দায় চাঁপাতে চাচ্ছে।

নাইম হোসেন বলেন, প্রতারিত গ্রাহকদের এ টাকার সাথে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কোন সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের সমন্ময়ে গ্রাহকদের সাথে বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে স্থানীয় বাজারে একটি সভা হয়েছে। ওই সভায় আগামী একমাসের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার করা হয়েছে।

নাইম হোসেন বলেন, কোটি টাকা নয়; কয়েক লাখ টাকার হিসেবে গড়মিল হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া দুই কর্মীর কাছ থেকে গ্রাহকদের সমূদয় টাকা উদ্ধার করে তা ফেরত দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, এলাকার ইউপি সদস্যসহ গণমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নাইম হোসেন আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার করেছেন। এরমধ্যে টাকা ফেরত না পেলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বরিশাল সদর উপজেলার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী গ্রাহকরা কখনও ব্যাংকে এসে টাকা জমা দেয়নি। তারা ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে তা আত্মসাত করার কোন সুযোগ ছিলোনা। আর এসব গ্রাহকদের সাথে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কোন সম্পর্কও নেই।

তারা মূলত ব্যাংকে কর্মরত এজেন্ট কর্মকর্তা নাইম হোসেনের মালিকাধীন মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমিতির গ্রাহক। সেখানে গ্রাহকদের সাথে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। তারপরেও তারা (মাল্টিপারপাসের গ্রাহক) ব্যাংকে এসে বিষয়টি জানানোর পর নাইম হোসেনকে চাঁপ প্রয়োগ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগকারী মাল্টিপারপাসের গ্রাহকদের সাথে বৃহস্পতিবার রাতে নাইম হোসেনের একটি সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে বলে শুনেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ