শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নামেই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা : সড়কের ওপর সারাবছর পানি জমে থাকে

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বরিশালের প্রথম শ্রেণীর গৌরনদী পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের নীলখোলা থেকে টরকী বন্দর আবাসিক এলাকার সড়কের ওপর প্রায় সারাবছরই পানি জমে থাকে। প্রথম দেখায় মনে হয় ভারী বৃষ্টি বা নদীর জোয়ারে সড়কটি পানিতে ডুবে আছে। কিন্তু বাস্তবে বছরের বারো মাসই সড়কটিতে পানি জমে থেকে সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

এতে পথচারীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন। পায়ে হেঁটে চলাচল করা যেমন কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে, তেমনি যানবাহন চলাচলের সময় পানি ছিটকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের কাপড় ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের আশপাশে রয়েছে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি মসজিদ, তিনটি মন্দির, একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি কমিউনিটি সেন্টার। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে টরকী বন্দরে যাতায়াত করছেন। দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগের পরও সমস্যার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না।

টরকী বন্দর ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা ইসলাম বলেন, “নীলখোলা আনোয়ারা প্রি-ক্যাডেট স্কুল থেকে শুরু হয়ে আমাদের ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গার্লস স্কুল হয়ে ছাগলহাট থেকে বড় ব্রিজ পর্যন্ত সড়কজুড়ে পানি জমে থাকে। এতে হেঁটে চলাচল করতে চরম কষ্ট হয়।”

ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার বলেন, “খুব সাবধানে গাড়ি চালালেও অনেক সময় পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে পড়ে। তখন নানা রকম কথা শুনতে হয়। সড়কের পাশে ড্রেনেজ না থাকায় পানি নামতে পারছে না। আশপাশের স্থাপনাগুলো সড়কের চেয়ে উঁচু হওয়ায় সড়কেই পানি জমে থাকে।”

স্থানীয় বাড়ির মালিক মিন্টু মোল্লা অভিযোগ করে জানান, পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ায় সেখান থেকেও পানি বের হয়ে সড়কে জমে থাকে। এতে প্রায় সারাবছরই সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বহুবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

এছাড়া দেখা গেছে, ভিপি মনিরুজ্জামান স্বপনের বাড়ির পাশের ড্রেনের মুখ স্থানীয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় পানি নিস্কাশনে আরও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি চলাচলের পথও দেয়াল তুলে আটকে দেওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সাবেক মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ তার মেয়াদকালে ইচ্ছেমতো সড়ক নির্মাণ, পূর্বের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ এবং পথের ওপর দেয়াল নির্মাণের নির্দেশ দেন। এর ফলেই জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে পুরো এলাকার মানুষ।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি বলেন, “বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। ইতোমধ্যে প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ